ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়দের হাত ধরে মাঠে প্রবেশ করা ছোট ছোট শিশুদের দৃশ্য এখন পরিচিত এক ঐতিহ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দর্শকের নজর কেড়েছে আরেকটি বিষয়—এসব শিশুর কানে বড় আকারের হেডফোনের মতো একটি যন্ত্র দেখা যায়। অনেকেই ভাবেন, তারা হয়তো গান শুনছে। কিন্তু বাস্তবে এটি গান শোনার জন্য নয়, বরং শ্রবণ সুরক্ষার বিশেষ ডিভাইস (Hearing Protection Earmuffs)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে স্টেডিয়ামের শব্দের মাত্রা অনেক সময় ১০০ থেকে ১২০ ডেসিবেল বা তারও বেশি হতে পারে। হাজারো দর্শকের একসঙ্গে চিৎকার, বাঁশি, ড্রাম, আতশবাজির শব্দ এবং উচ্চক্ষমতার সাউন্ড সিস্টেম—সব মিলিয়ে শিশুদের সংবেদনশীল কানের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এ কারণেই মাঠে খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকা শিশুদের কানে বিশেষ ধরনের নয়েজ-রিডাকশন ইয়ারমাফ পরিয়ে দেওয়া হয়। এই ডিভাইস বাইরের অতিরিক্ত শব্দের তীব্রতা কমিয়ে দেয়, তবে সম্পূর্ণভাবে শব্দ বন্ধ করে না। ফলে শিশুরা নিরাপদভাবে আশপাশের পরিবেশ বুঝতে পারে, আবার অতিরিক্ত শব্দের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও সুরক্ষিত থাকে।
কেন শিশুদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ?
শিশুদের শ্রবণশক্তি প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল। দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকলে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে শ্রবণক্ষমতার ক্ষতি হতে পারে। তাই বড় ক্রীড়া আয়োজন, কনসার্ট বা মোটর রেসিংয়ের মতো উচ্চ শব্দযুক্ত অনুষ্ঠানে অনেক দেশেই শিশুদের জন্য এ ধরনের ইয়ারমাফ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এটি কি সাধারণ হেডফোন?
না। অনেকটা হেডফোনের মতো দেখতে হলেও এটি আসলে শব্দ প্রতিরোধক ইয়ারমাফ। এতে কোনো গান বাজে না এবং মোবাইল বা অন্য ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার প্রয়োজনও হয় না। এর প্রধান কাজ হলো উচ্চ শব্দের মাত্রা কমিয়ে শিশুর কানকে নিরাপদ রাখা।
বিশ্বকাপে কেন এত বেশি ব্যবহার করা হয়?
বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকা শিশুদের অনেকক্ষণ স্টেডিয়ামের ভেতরে অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় চারপাশে দর্শকদের উল্লাস, জাতীয় সংগীত, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ঘোষণার শব্দ থাকে। এসব বিবেচনায় আয়োজকরা শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের জন্য ইয়ারমাফের ব্যবস্থা করে থাকেন।
শুধু বিশ্বকাপেই নয়
এ ধরনের ইয়ারমাফ শুধু ফুটবল বিশ্বকাপে নয়, অলিম্পিক, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, মোটরস্পোর্টস, কনসার্ট এবং অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনেও শিশুদের জন্য ব্যবহার করা হয়। অনেক অভিভাবক ছোট শিশুদের নিয়ে স্টেডিয়ামে গেলে নিজেরাও এমন সুরক্ষামূলক ইয়ারমাফ ব্যবহার করান।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের পরিবেশে রাখলে সতর্ক থাকা উচিত। যদি শব্দের মাত্রা বেশি হয়, তাহলে বয়স উপযোগী ও মানসম্মত শ্রবণ সুরক্ষা ডিভাইস ব্যবহার করা ভালো। এতে ভবিষ্যতে শ্রবণশক্তির ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!