সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। বিশেষ করে হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির সুস্থতায় সঠিক খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি এবং খনিজ উপাদান হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু মাছ খেলেই রোগ প্রতিরোধ হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নিচে এমন চার ধরনের মাছের কথা তুলে ধরা হলো, যেগুলো নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখলে হার্ট ও কিডনির স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

১. ইলিশ

ইলিশে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা কমাতে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা ভালো মানের প্রোটিন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগীদের অতিরিক্ত লবণ দিয়ে রান্না করা ইলিশ এড়িয়ে চলা উচিত।

২. রুই মাছ

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় মাছ রুই। এতে রয়েছে সহজপাচ্য প্রোটিন, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং বি-ভিটামিন। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

৩. টুনা মাছ

টুনা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। এটি হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ক্যানজাত টুনা খেলে লবণের পরিমাণ দেখে নেওয়া উচিত।

৪. সার্ডিন মাছ

ছোট আকারের এই সামুদ্রিক মাছটি ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ওমেগা-৩ এবং প্রোটিনে সমৃদ্ধ। হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে মনে করা হয়। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে কতটুকু খাওয়া উপযুক্ত হবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

মাছ খাওয়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

১। অতিরিক্ত তেলে ভাজা মাছের পরিবর্তে সিদ্ধ, গ্রিল বা কম তেলে রান্না করা মাছ বেছে নিন।

২। অতিরিক্ত লবণ ও মসলা ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

৩। কিডনি রোগ থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী মাছের পরিমাণ নির্ধারণ করুন।

৪। সপ্তাহে ২–৩ দিন বিভিন্ন ধরনের মাছ খাদ্যতালিকায় রাখার চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন

মাছ স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও এটি কোনো রোগের ওষুধ নয়। হৃদ্‌রোগ বা কিডনি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!