২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগাল। আইবেরিয়ান দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই লড়াইকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় নকআউট ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন, অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অভিজ্ঞতায় ভরসা রাখা পর্তুগাল—সব মিলিয়ে জমে উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যানের বিচারে স্পেনকে কিছুটা এগিয়ে রাখছে অপটা সুপার কম্পিউটার। ২৫ হাজার প্রাক-ম্যাচ সিমুলেশনের ভিত্তিতে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৪৮.৬ শতাংশ। অন্যদিকে পর্তুগালের জয়ের সম্ভাবনা ২৫.৬ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৫.৮ শতাংশ।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দুর্দান্ত সময় পার করছে স্পেন। এবারের বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ খেলেও এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি তারা। শেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে লা রোজা।

স্পেনের সামনে রয়েছে ইতিহাস গড়ার সুযোগও। পর্তুগালের বিপক্ষেও যদি ক্লিন শিট ধরে রাখতে পারে, তাহলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয় ম্যাচ গোল না খাওয়ার নজির গড়বে তারা।

শুধু তাই নয়, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বর্তমানে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন। আজ হার এড়াতে পারলে নিজেদের সর্বোচ্চ ৩৫ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করবে তারা।

অন্যদিকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে পর্তুগালকে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গঞ্জালো রামোসের গোলে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয় রবার্তো মার্তিনেজের দল।

দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্যই অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। স্পেনের বিপক্ষে তার চারটি গোল রয়েছে, যা এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যেকোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলসংখ্যার সমান। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে করা তার হ্যাটট্রিক এখনো ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুই দলের দেখা হয়েছে পাঁচবার। সেখানে স্পেন ও পর্তুগাল একটি করে ম্যাচ জিতেছে, আর বাকি তিনটি ড্র হয়েছে।

তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের সামগ্রিক হিসাব স্পেনের পক্ষেই। শেষ ১২টি প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়ে পর্তুগাল মাত্র একবার জয় পেয়েছে, সেটিও ইউরো ২০০৪-এ।

অবশ্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো স্মৃতিও আছে পর্তুগালের। দুই দলের সর্বশেষ দেখায় ২০২৫ সালের নেশনস লিগের ফাইনালে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল রোনালদোরা।

পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক ফর্ম এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় স্পেনকে সামান্য এগিয়ে রাখা যায়। তবে নকআউট ফুটবলে অভিজ্ঞতা, রোনালদোর উপস্থিতি এবং এক মুহূর্তের জাদু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

তাই কাগজে-কলমে স্পেন ফেভারিট হলেও, ডালাসের এই আইবেরিয়ান ডার্বিতে শেষ হাসি কে হাসবে—সেটি নির্ধারণ করবে মাঠের ৯০ মিনিট।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!