বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন থেকে জেলা পর্যায়ে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসে ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং রোগীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখতে হবে। বিশেষ করে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিকেল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শযার বিপরীতে অন্তত একজন চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নজরদারি কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সিভিল সার্জনদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি মাসে সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, কর্মরত চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ ও যাচাই করা।

এ ছাড়া বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতে আকস্মিক পরিদর্শনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে যদি কোনো হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত না থাকেন বা ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানাতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। এতে প্রতিটি জেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কার্যক্রম সম্পর্কে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, চিকিৎসক সংকট গোপন করা কিংবা দায়িত্বে অবহেলার মতো অনিয়ম কমে আসবে। ফলে রোগীরা আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!