ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারকে ঘিরে প্রত্যাশার শেষ নেই। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে সেই প্রত্যাশা যেন বারবার পরিণত হচ্ছে অপেক্ষায়, আর অপেক্ষা শেষ হচ্ছে হতাশায়। তিনি খেলবেন কি না—এই প্রশ্নই যেন প্রতিটি ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মাঠে নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়, আবার শেষ মুহূর্তে তা মিলিয়ে যায় মরীচিকার মতো।

আজ (৫ জুলাই) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচটির আগে ফুটবলপ্রেমীদের বড় প্রশ্ন—নেইমার কি এবার মাঠে নামবেন? নাকি আগের ম্যাচগুলোর মতো আবারও বেঞ্চেই কাটবে তার সময়?

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ হলে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় থাকার কথা ছিল আর্লিং হলান্ড ও নেইমারের দ্বৈরথ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নরওয়ের আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হলান্ড, আর ব্রাজিলের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে দলে ফিরলেও এখনও পুরোপুরি ম্যাচ ফিট নন নেইমার। ফলে কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় তিনি এখনও নিশ্চিত একাদশের অংশ নন।

সম্প্রতি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ফোলিয়া দে সাও পাওলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার এখন ৯০ মিনিট খেলার মতো শারীরিকভাবে প্রস্তুত।

তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ম্যাচে কতক্ষণ খেলবেন, সেটি আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। দলের প্রয়োজন অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থাৎ, নেইমার মাঠে নামতেও পারেন, আবার পুরো ম্যাচ বেঞ্চেও কাটাতে পারেন। চোট নিয়ে বিশ্বকাপে আসা নেইমারের জন্য এবারের আসর এখন পর্যন্ত সুখকর নয়।

গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র ১৪ মিনিট খেলেছেন তিনি। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলকে তাকে নামানোর প্রয়োজনই পড়েনি। ফলে চার ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপে নেইমারের মোট খেলার সময় মাত্র ১৪ মিনিট।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে ও নেইমার—এই চার সুপারস্টারকে ঘিরেই ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচনা।

এখন পর্যন্ত অন্য তারকারা নিজেদের ছাপ রেখে চললেও নেইমারের বিশ্বকাপ যেন এখনও শুরুই হয়নি।

ব্রাজিল যদি ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায়, তাহলে সামনে আরও চারটি ম্যাচ খেলতে পারে। ফলে সমর্থকদের আশা এখনো শেষ হয়নি। প্রত্যেক ম্যাচেই তারা অপেক্ষা করবেন নেইমারকে মাঠে দেখার জন্য।

২০২৩ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার পর দীর্ঘ বিরতির পর এবারের বিশ্বকাপে আবার ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তুলেছেন নেইমার।

তবে প্রত্যাবর্তনের আনন্দের চেয়ে মাঠে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ার হতাশাই এখন বেশি।

আনচেলত্তি অবশ্য নেইমারের পেশাদারিত্ব, বিনয় ও দলের প্রতি নিবেদন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন। তবে সমর্থকদের কাছে এসব প্রশংসার চেয়ে মাঠে নেইমারের উপস্থিতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় রহস্যের নাম এখনো নেইমার। তিনি যদি মাঠে নামেন, তাহলে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য এখনও তার আছে।

কিন্তু যদি আবারও বেঞ্চেই কাটে পুরো সময়, তাহলে এবারের বিশ্বকাপে নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘মরীচিকা’র গল্প আরও দীর্ঘ হবে।

 

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!