শৈশবের অনেক মধুর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একজন বিশেষ মানুষ—খালা। অনেকের কাছেই খালা মানে দ্বিতীয় মা, আবার কারও কাছে তিনি সবচেয়ে কাছের বন্ধু। ছোটবেলায় বেড়াতে যাওয়া, প্রিয় খাবার রান্না, আবদার পূরণ কিংবা কোনো ভুল করলে মায়ের বকুনি থেকে আড়াল করা—এসব স্মৃতিতে খালার উপস্থিতি প্রায়ই দেখা যায়। তাই অনেকের মুখে একটি প্রচলিত কথা শোনা যায়—”মায়ের পর সবচেয়ে বেশি আদর পাওয়া যায় খালার কাছেই।” কিন্তু এই ধারণার বাস্তব ভিত্তি কতটা?

কেন খালার সঙ্গে সম্পর্ক এত গভীর হয়?

পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, খালার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের একটি আলাদা আবেগ কাজ করে। কারণ খালা নিজেও একজন মেয়ের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিশুদের বেড়ে ওঠা বোঝেন। একই সঙ্গে তিনি মায়ের আপন বোন হওয়ায় পরিবারের আবেগ, মূল্যবোধ ও পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত থাকেন।

এ কারণে অনেক সময় খালা শিশুর প্রতি দায়িত্ববোধ অনুভব করেন। বিশেষ করে মায়ের ব্যস্ততা বা অনুপস্থিতিতে খালাই অনেক পরিবারের শিশুদের দেখাশোনা করেন।

‘দ্বিতীয় মা’ বলা হয় কেন?

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিতে খালাকে অনেক সময় ‘দ্বিতীয় মা’ বলা হয়। কারণ তিনি শুধু আত্মীয় নন, বরং পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকের ভূমিকাও পালন করেন।

অনেক পরিবারে দেখা যায়, সন্তান অসুস্থ হলে, পরীক্ষার সময়, কিংবা কোনো মানসিক সমস্যায় পড়লে খালা পাশে দাঁড়ান। মায়ের মতোই স্নেহ, পরামর্শ ও সাহস দিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের আগলে রাখেন।

শিশুর মানসিক বিকাশে খালার ভূমিকা

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন শিশুর জীবনে বাবা-মায়ের বাইরে আরও কিছু বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের উপস্থিতি মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

খালা যদি শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে শিশু— নিজের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করতে শেখে। আত্মবিশ্বাস বাড়ে। পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

খালার সঙ্গে স্মৃতিগুলো কেন আলাদা?

অনেকেই বলেন, খালার বাড়ি মানেই আনন্দ। সেখানে শাসনের চেয়ে আদর বেশি পাওয়া যায়। প্রিয় খাবার, ঘুরতে যাওয়া, নতুন পোশাক কিংবা ছোট ছোট উপহার—এসব কারণেই খালার সঙ্গে কাটানো সময় মনে গেঁথে থাকে। অবশ্য এসব অভিজ্ঞতা ব্যক্তি ও পরিবারভেদে ভিন্ন হতে পারে।

আধুনিক জীবনে সম্পর্কের পরিবর্তন

আগের তুলনায় এখন অনেক পরিবারই ছোট হয়ে গেছে। চাকরি, পড়াশোনা কিংবা বিদেশে বসবাসের কারণে আত্মীয়দের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হওয়ার সুযোগও কমে গেছে।

তবুও প্রযুক্তির কারণে ভিডিও কল, মেসেজ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অনেক খালাই ভাগনে-ভাগনির সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখছেন। এতে দূরত্ব থাকলেও সম্পর্কের উষ্ণতা অনেক ক্ষেত্রে বজায় থাকে।

ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে কী করবেন?

খালা ও ভাগনে-ভাগনির সম্পর্ক আরও সুন্দর রাখতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।জন্মদিন বা বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানান। পারিবারিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে সময় কাটান। ছোটদের কথা মন দিয়ে শুনুন। প্রয়োজনের সময় পাশে থাকুন।

শেষ কথা

মায়ের পর খালাই কি সবচেয়ে আপন? এটি কোনো বৈজ্ঞানিক সত্য নয়, তবে বহু মানুষের জীবনের এক আন্তরিক অভিজ্ঞতা। কারও জীবনে এই জায়গাটি খালা পূরণ করেন, আবার কারও ক্ষেত্রে অন্য কোনো আত্মীয় বা অভিভাবক।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুর জীবনে এমন কিছু মানুষের উপস্থিতি, যারা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও মানসিক সমর্থন দেন। সেই মানুষটি যদি খালা হন, তাহলে সত্যিই তিনি অনেকের কাছে ‘দ্বিতীয় মা’ হয়ে ওঠেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!