বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই বাংলাদেশে বাড়তি উন্মাদনা। ৪ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে নিয়ে দেশের অনেক ফুটবলপ্রেমীর আগ্রহও বেড়েছে। ছোট্ট আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলেই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। তবে কেপ ভার্দেকে ঘিরে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি বিশেষ কারণ রয়েছে—দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে।
দূরত্বে প্রায় ১১ হাজার ৬৬৯ কিলোমিটার হলেও বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন নয় বাংলাদেশ ও কেপ ভার্দে। আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রে এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে জাতীয় ফুটবল দলের অফিশিয়াল জার্সিও।
২০১০ সাল থেকে শুরু বাণিজ্যিক সম্পর্ক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের নভেম্বরে প্রথমবার কেপ ভার্দেতে পণ্য রপ্তানি শুরু করে বাংলাদেশ। সে সময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রিকালচার মার্কেটিং কোম্পানি খাদ্যপণ্য পাঠায় দেশটিতে।
পরবর্তী সময়ে ওয়ালটন, হাশেম ফুডসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কেপ ভার্দের বাজারে প্রবেশ করে। বর্তমানে দেশটিতে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কেটলি, ওভেনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যও রপ্তানি হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ কেপ ভার্দে থেকে মূলত লোহার স্ক্র্যাপ আমদানি করে।
রপ্তানিতে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দেতে প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। একই সময়ে আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ডলারের পণ্য।
ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের (আইটিসি) তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে কেপ ভার্দে বিশ্বের ৯৩টি দেশ থেকে প্রায় ১১১ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। সেই বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি এখনও সীমিত হলেও ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, নতুন নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই ২০১০ সালে কেপ ভার্দেতে রপ্তানি শুরু হয়েছিল। বাজারটি ছোট হলেও সেখানে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
বিশ্বকাপে গেল বাংলাদেশের তৈরি জার্সি
বিশ্বকাপ উপলক্ষে দুই দেশের বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তৈরি পোশাক খাত।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড চলতি বছর কেপ ভার্দেতে ১২ হাজার ৫৭৩টি জার্সি, শার্ট ও জ্যাকেট রপ্তানি করেছে। এসব পণ্যের মোট রপ্তানিমূল্য প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
প্রতিটি পোশাকের রপ্তানিমূল্য ছিল ৮ থেকে ১৬ মার্কিন ডলারের মধ্যে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ধাপে ধাপে এসব চালান পাঠানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশতাক আহমেদ খান জানান, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রীড়া পোশাক ব্র্যান্ড Capelli Sport, যা কেপ ভার্দের জাতীয় ফুটবল দলের অফিশিয়াল কিট সরবরাহকারী, তাদের কাছ থেকেই এই অর্ডার আসে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সব জার্সি সরবরাহ সম্পন্ন করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে থাকবে বাংলাদেশের ছোঁয়া
বাংলাদেশে কেপ ভার্দের সমর্থক খুব বেশি না থাকলেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামা কেপ ভার্দের ফুটবলারদের গায়ে থাকবে বাংলাদেশের তৈরি জার্সি।
ফুটবলের মঞ্চে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই চমক দেখিয়েছে আফ্রিকার এই দল। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী কয়েকটি দলকে পেছনে ফেলে তারা জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে। এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
মাঠের লড়াইয়ে হয়তো সমর্থন থাকবে আর্জেন্টিনার পক্ষেই, কিন্তু প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সাফল্যের গল্পও। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে এটি বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতার আরেকটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!