বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করতে চালু হওয়া বাংলা কিউআর (Bangla QR) ব্যবস্থায় পণ্য বা সেবা কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে না বলে স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কিউআর কোড স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধের সময় বিক্রেতা যদি পণ্যের মূল দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন, তাহলে সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে কেনাকাটা করলে ক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো সার্ভিস চার্জ, কনভিনিয়েন্স ফি বা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না। একজন গ্রাহক যে মূল্যে পণ্য কিনবেন, ঠিক সেই মূল্যই পরিশোধ করবেন। অর্থাৎ বাংলা কিউআর ব্যবহারে গ্রাহকের জন্য চার্জ শূন্য শতাংশ।
তবে কিউআর পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত একটি চার্জ বিক্রেতা বা মার্চেন্টকে বহন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার টাকার লেনদেনে মার্চেন্টের সর্বোচ্চ ১০ টাকা চার্জ প্রযোজ্য হবে। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১১ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১.১৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় মার্চেন্টকে বহন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এই ব্যয় কোনো অবস্থাতেই ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করা যাবে না। এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনার একটি খরচ হিসেবে বিক্রেতাকেই বহন করতে হবে। গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে সেটি নীতিমালা লঙ্ঘনের শামিল হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদাহরণ দিয়ে জানায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠান যেমন—আড়ং, মীনা বাজারসহ অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট চার্জ বহন করে থাকে। কিন্তু সেই অতিরিক্ত ব্যয় তারা সরাসরি গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেয় না। বরং ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা এবং বিক্রয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ হিসেবে এই খরচ বহন করে।
একইভাবে বাংলা কিউআর ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো দেশে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও দ্রুত ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো। একক কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী—উভয়েই উপকৃত হবেন বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলা কিউআর ব্যবহার করলে গ্রাহকদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে—এমন নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি কেনাকাটার সময় কিউআর কোডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের আগে মূল্য যাচাই করারও পরামর্শ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কোনো বিক্রেতা যদি বাংলা কিউআর ব্যবহার করে পেমেন্ট গ্রহণের সময় অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন, তাহলে ভুক্তভোগী গ্রাহক সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বাংলা কিউআরের সফল বাস্তবায়নের জন্য গ্রাহক ও ব্যবসায়ী—উভয়েরই নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। এতে দেশে ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি আরও বাড়বে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!