দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে মৃত্যুর সংখ্যা যোগ হওয়ায় চলতি বছরের মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার রোগী রয়েছেন। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল এবং ঢাকার বাইরের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র—উভয় স্থানেই রোগী শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের যুক্ত হওয়ায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও আরও বেড়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, বর্ষাকালে এডিস মশার বিস্তার বাড়ায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা ত্বকে লালচে দাগের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং মশা নিরোধক ব্যবহার করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!