গ্লুকোমা (Glaucoma) হলো চোখের এমন একটি রোগ, যা ধীরে ধীরে অপটিক নার্ভ বা দৃষ্টিস্নায়ুর ক্ষতি করে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি শুরুতে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখায় না। তাই গ্লুকোমাকে প্রায়ই ‘নীরব দৃষ্টিচোর’ বলা হয়।

গ্লুকোমা কেন হয়?

গ্লুকোমার প্রধান কারণ হলো চোখের ভেতরের চাপ (Intraocular Pressure) অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। আমাদের চোখের ভেতরে একটি স্বচ্ছ তরল (Aqueous Humor) তৈরি হয় এবং নির্দিষ্ট পথে বের হয়ে যায়। যখন এই তরল স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে না, তখন চোখের ভেতরের চাপ বাড়ে। এই অতিরিক্ত চাপ ধীরে ধীরে অপটিক নার্ভের ক্ষতি করে। তবে সব গ্লুকোমার ক্ষেত্রেই চোখের চাপ বেশি থাকে না। অনেকের স্বাভাবিক চাপ থাকলেও দৃষ্টিস্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে।

গ্লুকোমার ঝুঁকির কারণ

গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় এমন কয়েকটি কারণ হলো—

১। বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়া ।

২। পরিবারে কারও গ্লুকোমার ইতিহাস থাকা ।

৩। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ ।

৪। দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার ।

৫। চোখে আঘাত পাওয়া ।

৬। অতিরিক্ত চোখের চাপ ।

৭। কর্নিয়া পাতলা হওয়া ।

৮। উচ্চ মাত্রার কাছের বা দূরের দৃষ্টির সমস্যা ।

গ্লুকোমার লক্ষণ

প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে রোগ বাড়লে দেখা দিতে পারে—

১। ধীরে ধীরে পাশের দৃষ্টি কমে যাওয়া ।

২। ঝাপসা দেখা ।

৩। আলো দেখলে চারপাশে রঙিন বলয় দেখা ।

৪। চোখে তীব্র ব্যথা (বিশেষ করে অ্যাকিউট গ্লুকোমায়) ।

৫। মাথাব্যথা ।

৬। বমি বমি ভাব বা বমি ।

৭। চোখ লাল হয়ে যাওয়া ।

গ্লুকোমা কি পুরোপুরি ভালো হয়?

গ্লুকোমায় দৃষ্টিস্নায়ুর যে ক্ষতি হয়, তা সাধারণত ফিরিয়ে আনা যায় না। তবে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে রোগের অগ্রগতি অনেকটাই থামানো সম্ভব। এজন্য দ্রুত রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

চক্ষু বিশেষজ্ঞ সাধারণত কয়েকটি পরীক্ষা করে গ্লুকোমা শনাক্ত করেন—

১। চোখের চাপ মাপা (Tonometry) ।

২। অপটিক নার্ভ পরীক্ষা ।

৩। ভিজ্যুয়াল ফিল্ড টেস্ট ।

৪। OCT (Optical Coherence Tomography) ।

৫। কর্নিয়ার পুরুত্ব পরীক্ষা ।

চিকিৎসা

গ্লুকোমার চিকিৎসা রোগের ধরন ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

১। চোখের ড্রপ ।

২। মুখে খাওয়ার ওষুধ (প্রয়োজন হলে) ।

৩। লেজার চিকিৎসা ।

৪। অস্ত্রোপচার ।

প্রতিরোধের উপায়

১। বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে ৪০ বছরের পর।

২। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৩। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহার করবেন না।

৪। চোখে আঘাত এড়িয়ে চলুন।

৫। পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস থাকলে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করান।

গ্লুকোমা এমন একটি রোগ, যা শুরুতে নীরবে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে। তাই চোখে কোনো সমস্যা না থাকলেও নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করা জরুরি, বিশেষ করে যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি বা পরিবারে এই রোগের ইতিহাস রয়েছে। দ্রুত শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!