ফুটবল বিশ্বকাপে প্রতিটি আসরেই জন্ম নেয় নতুন নতুন ইতিহাস। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে এমনই এক অনন্য নজির গড়েছেন নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্ডার টাইলার বিন্ডন। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামার মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের স্বপ্নই পূরণ করেননি, বরং মাকে সঙ্গে নিয়ে গড়েছেন বিশ্ব ফুটবলের এক অনন্য রেকর্ড।
টাইলার বিন্ডন এবং তাঁর মা জেনি বিন্ডন এখন ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম মা–ছেলের জুটি, যারা দুজনই নিজ নিজ সময়ে ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
২০২৬ সালের পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয় ২১ বছর বয়সী টাইলার বিন্ডনের। ইরানের বিপক্ষে দলের প্রথম ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। গ্যালারিতে বসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন তাঁর মা জেনি বিন্ডন।
জেনি বিন্ডন নিউজিল্যান্ড নারী ফুটবল দলের সাবেক গোলরক্ষক। তিনি ২০০৭ ও ২০১১ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়া ২০০৮ ও ২০১২ অলিম্পিক গেমসেও নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর রয়েছে ৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা।
ইতিহাস গড়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে জেনি বলেন, ম্যাচ শেষে ছেলে তাঁর কাছে এসে হাত ধরে বলেছিল, “আমরা পেরেছি, মা।” তখনই তাঁর উপলব্ধি হয় যে, তাঁরা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম মা–ছেলের জুটি হিসেবে নতুন একটি অধ্যায় লিখেছেন।
অন্যদিকে টাইলারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অর্জনকে জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা যেমন গর্বের, তেমনি মায়ের সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হতে পারা তাঁর জন্য আরও বড় সম্মানের।
ফুটবল বিশ্বকাপে আগে বাবা–ছেলের একাধিক জুটি খেলেছেন। যেমন ইতালির মালদিনি পরিবার কিংবা ফ্রান্সের জোরকায়েফ পরিবার। তবে মা ও ছেলে—এই অনন্য কীর্তি এবারই প্রথম দেখা গেল বিশ্বকাপের ইতিহাসে।
নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান খুব বেশি দূর এগোয়নি। তবে টাইলার ও জেনি বিন্ডনের এই রেকর্ড ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। মাঠের ফলাফলের বাইরেও তাঁদের এই অর্জন নারী ফুটবলের অগ্রগতি এবং পারিবারিক অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!