দেশে অতিসংক্রামক হাম রোগের প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও কয়েকটি শিশুর মৃত্যু হওয়ায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে শত শত শিশু, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবের পর মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭০০-এর ঘর অতিক্রম করেছে। একই সময়ে নতুন আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া হামের সাধারণ লক্ষণ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, সময়মতো চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত পরিচর্যা না পেলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা অন্যান্য জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করতে হবে এবং জ্বর বা হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!