মুখের ত্বক বা চুলের যত্নের পাশাপাশি পায়ের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেকেই নিয়মিত পেডিকিউর করার প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেন না। ফলে পায়ের ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া, গোড়ালি ফেটে যাওয়া, নখের চারপাশে মৃত কোষ জমে থাকা কিংবা নখের বিভিন্ন সমস্যার মতো বিষয়গুলো দেখা দিতে পারে। তাই প্রশ্ন ওঠে—আসলে কতদিন পর পর পেডিকিউর করা উচিত?
ত্বক ও সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পেডিকিউর শুধু সৌন্দর্যচর্চার অংশ নয়; এটি পায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। নিয়মিত পেডিকিউর করলে পায়ের ত্বক পরিষ্কার থাকে, মৃত কোষ দূর হয় এবং নখ পরিচ্ছন্ন থাকে।
সাধারণভাবে কতদিন পর পর পেডিকিউর করবেন?
যাদের পায়ের ত্বক স্বাভাবিক এবং বিশেষ কোনো সমস্যা নেই, তারা সাধারণত প্রতি ৪ থেকে ৬ সপ্তাহে একবার পেডিকিউর করতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে পায়ের নখ কিছুটা বড় হয় এবং মৃত ত্বকও জমতে শুরু করে।
তবে এটি সবার জন্য একই রকম নাও হতে পারে। কারও ত্বক খুব শুষ্ক হলে বা গোড়ালি দ্রুত ফেটে গেলে আরও ঘন ঘন যত্নের প্রয়োজন হতে পারে।
যাদের বেশি হাঁটতে হয়
যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন বা অনেক হাঁটাহাঁটি করেন, তাদের পায়ে চাপ বেশি পড়ে। ফলে গোড়ালি শক্ত হয়ে যাওয়া বা মৃত ত্বক জমার প্রবণতাও বাড়ে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি ৩ থেকে ৪ সপ্তাহে একবার পেডিকিউর করা উপকারী হতে পারে।
বর্ষা ও শীতকালে বিশেষ যত্ন
বর্ষাকালে দীর্ঘ সময় ভেজা জুতা বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকলে পায়ের ত্বক ও নখে ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে শীতকালে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে গোড়ালি ফাটার সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ দুই মৌসুমে পায়ের পরিচর্যার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ঘরে বসেই কি পেডিকিউর করা যায়?
হ্যাঁ। ঘরেই সহজভাবে পেডিকিউর করা সম্ভব।
এর জন্য যা করতে পারেন—
১। হালকা গরম পানিতে ১০–১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন।
২। মৃদু স্ক্রাব দিয়ে মৃত ত্বক পরিষ্কার করুন।
৩। নখ পরিষ্কার করে প্রয়োজনমতো কাটুন।
৪। গোড়ালি পিউমিক স্টোন বা ফুট ফাইল দিয়ে ঘষে নিন।
৫। শেষে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগান।
পেডিকিউরের উপকারিতা
নিয়মিত পেডিকিউর করলে—
১। মৃত ত্বক দূর হয় ।
২। গোড়ালি নরম থাকে ।
৩। নখ পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর থাকে ।
৪। দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে ।
৫। পায়ের ত্বক মসৃণ হয় ।
৬। পায়ের ক্লান্তি কিছুটা কমতে পারে ।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
১। নখ খুব ছোট করে কাটবেন না।
২।। ধারালো যন্ত্র ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকুন।
৩। সংক্রমণ বা ক্ষত থাকলে নিজে পেডিকিউর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪। পার্লারে পেডিকিউর করালে জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে কি না নিশ্চিত করুন।
শেষ কথা
পেডিকিউর শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, পায়ের সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে প্রতি ৪ থেকে ৬ সপ্তাহে একবার পেডিকিউর করা যথেষ্ট। তবে আপনার পায়ের ত্বক, জীবনযাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে পা থাকবে পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!