দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৫৭ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগের রোগী রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ছে। বৃষ্টির জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। ফলে নগরাঞ্চলের পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমিভাব কিংবা শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাধারণ মানুষকে বাসাবাড়ি, অফিস ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ফুলের টব, পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র এবং ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তাই মশারি ব্যবহার, পূর্ণহাতা পোশাক পরা এবং মশা প্রতিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!