ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভয়াবহ শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ৬২টি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদানও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদ খালি থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনায় নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত পদগুলো পূরণ না হলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলার চর কান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রও একই রকম। বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র তিনজন। প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. রফিক উল্যাহ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি জানান, ২০২২ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পাঠদান চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম বলেন, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়া একটি বিদ্যালয় পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা ও আদালতে চলমান মামলার কারণে নিয়োগ ও পদায়ন কার্যক্রম আটকে আছে। ফলে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১১০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৩৬টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। ২৪টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। আর ৫০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ সম্পূর্ণ শূন্য।

এদিকে সহকারী শিক্ষকের ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় ঘাটতি। উপজেলায় অনুমোদিত ৬৭২টি সহকারী শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৬১০ জন। ফলে ৬২টি পদ খালি রয়েছে।

শুধু বিদ্যালয় নয়, শিক্ষক সংকটে রয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসও। শিক্ষা কর্মকর্তাসহ মোট ১১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম তাহেরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক পদের ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। পদোন্নতির জন্য সম্ভাব্য শিক্ষকদের তালিকা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শিক্ষক সংকট অনেকটাই কমে আসবে এবং বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!