বিশ্বকাপের ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দলের ড্রেসিংরুমে একটি দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও রদ্রিগো দি পলকে নিয়মিত ক্যান্ডি খেতে দেখা যায়। শুধু এই দুই ফুটবলারই নন, কোচ লিওনেল স্কালোনিসহ দলের অনেক সদস্যের কাছেই এটি এখন এক ধরনের ম্যাচ-পূর্ব রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

ফুটবলে ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের নানা ধরনের ব্যক্তিগত অভ্যাস বা রুটিন থাকে। কেউ গান শোনেন, কেউ বই পড়েন, আবার কেউ বিশেষ কোনো কাজকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করেন। আর্জেন্টিনা দলের ক্ষেত্রে সেই জায়গাটি দখল করে নিয়েছে ‘সুগুস’ নামের একটি জনপ্রিয় ক্যান্ডি।

২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে লিয়ান্দ্রো পারেদেস জানান, তাঁরা শুধু ক্যান্ডি খেলেই ক্ষান্ত হন না, নির্দিষ্ট রঙের ক্যান্ডিও বেছে নেন। পারেদেসের পছন্দ সাতটি ক্যান্ডি—যার মধ্যে চারটি নীল এবং তিনটি হলুদ রঙের।

এই ক্যান্ডি-সংস্কৃতির অন্যতম বড় ভক্ত কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমে সুগুস ক্যান্ডির প্যাকেট না থাকলে যেন তাঁর প্রস্তুতিই সম্পূর্ণ হয় না। একবার মজা করে স্কালোনি বলেছিলেন, ম্যাচ শুরুর আগে তিনি একাই প্রায় ৪০টি লাল রঙের ক্যান্ডি খেয়ে ফেলেন।

স্কালোনি আরও জানান, দলের কিটম্যান ও সাপোর্ট স্টাফরা এখন ম্যাচের সরঞ্জামের পাশাপাশি ক্যান্ডির বক্স আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করেন। কারণ এটি ধীরে ধীরে দলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগেও পারেদেস ও রদ্রিগো দি পলকে ক্যান্ডি খেতে দেখা গেছে। এমনকি দলের ভেতরে এখন অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, ম্যাচের আগে এই ক্যান্ডি না খেলে হয়তো খারাপ কিছু ঘটতে পারে।

যদিও এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা নেই, তবুও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলের জন্য ‘সুগুস’ ক্যান্ডি এখন এক ধরনের সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আর মাঠে সাফল্য আসতে থাকায় সেই বিশ্বাসও দিন দিন আরও শক্ত হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!