প্রচলিত পেট্রোল বা অকটেনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে Maruti Suzuki। প্রতিষ্ঠানটি তাদের জনপ্রিয় WagonR মডেলের একটি Flex Fuel সংস্করণ উন্মোচন করেছে, যা উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে চলতে সক্ষম।

ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, গাড়িটি শুধু সাধারণ পেট্রোল নয়, বরং E20 থেকে E85 পর্যন্ত বিভিন্ন মাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতেও চলতে পারে। অর্থাৎ জ্বালানিতে ইথানলের পরিমাণ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত হলেও গাড়ির ইঞ্জিন সেটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানলভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমে এবং কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পায়। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন বিকল্প জ্বালানি প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।

মারুতি-সুজুকি জানিয়েছে, নতুন WagonR Flex Fuel মডেলে বিশেষভাবে ক্যালিব্রেট করা ইঞ্জিন, উন্নত ফুয়েল সিস্টেম এবং ইঞ্জিন ম্যানেজমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানিতে গাড়িটি দক্ষতার সঙ্গে চলতে পারবে।

ভারত সরকারও দীর্ঘদিন ধরে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির গাড়িগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য থেকে উৎপাদিত ইথানল ব্যবহার করলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার পথও আরও সহজ হবে।

যদিও WagonR Flex Fuel এখনো পরীক্ষামূলক ও প্রদর্শনী পর্যায়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তবুও এটি ভবিষ্যতের জ্বালানি প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাড়িপ্রেমীদের অনেকেই মনে করছেন, এমন প্রযুক্তি জনপ্রিয় হলে প্রচলিত জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের বিকল্প আরও শক্তিশালী হবে।

অটোমোবাইল বাজার, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত সচেতনতা বাড়ার কারণে আগামী বছরগুলোতে ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির গাড়ির চাহিদা আরও বাড়তে পারে। আর সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই মারুতি-সুজুকি তাদের নতুন WagonR Flex Fuel নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!