বর্তমান সময়ে কাজ, পড়াশোনা কিংবা বিনোদন—সবকিছুর জন্যই দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড সংযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারকারীরা প্রত্যাশিত গতি পান না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সময় ইন্টারনেট সেবাদাতার সমস্যা নয়; অনেক ক্ষেত্রে রাউটারের অবস্থান, সেটিংস বা ব্যবহারের ধরনও ধীরগতির জন্য দায়ী হতে পারে।

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, কয়েকটি সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘরে বসেই ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়ানো সম্ভব।

যে উপায়ে বাড়তে পারে ওয়াই-ফাইয়ের গতি:

১. রাউটার খোলা ও উপযুক্ত স্থানে রাখুন
অনেকেই রাউটার টিভির পেছনে, আলমারির ভেতরে বা পুরু দেয়ালের পাশে স্থাপন করেন। এতে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হয় এবং ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তাই রাউটার এমন স্থানে রাখা উচিত, যেখানে চারদিকে সিগন্যাল সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২. নিয়মিত রাউটার রিস্টার্ট করুন
রাউটার দীর্ঘ সময় একটানা চালু থাকলে এর কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। সপ্তাহে অন্তত একবার ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য রাউটার বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করলে অনেক ক্ষেত্রে স্পিডের উন্নতি দেখা যায়।

৩. বাসার কেন্দ্রীয় স্থানে রাউটার বসান
রাউটার যদি বাসার এক কোণে থাকে, তাহলে অন্য প্রান্তে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। বিশেষ করে বড় বাসা বা একাধিক কক্ষ থাকলে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই কেন্দ্রীয় স্থানে রাউটার রাখলে ভালো কভারেজ পাওয়া সম্ভব।

৪. রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট রাখুন
নিরাপত্তা ও পারফরম্যান্স উন্নত করতে নির্মাতারা নিয়মিত ফার্মওয়্যার আপডেট প্রকাশ করে। পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহারের কারণে অনেক সময় ইন্টারনেট ধীরগতির হয়ে যায়।

৫. প্রয়োজন হলে রাউটার রিসেট করুন
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন সেটিংসজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। অন্য কোনো উপায়ে সমাধান না হলে রাউটারের রিসেট বাটন ব্যবহার করে ডিভাইসটিকে ডিফল্ট সেটিংসে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।

৬. অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন
একই নেটওয়ার্কে অনেক ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যায়। ফলে প্রতিটি ডিভাইস কম গতি পায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া সংযুক্ত ডিভাইসগুলো বিচ্ছিন্ন রাখা ভালো।

৭. স্পিড টেস্ট করে সমস্যা শনাক্ত করুন
ইন্টারনেট ধীরগতির মনে হলে প্রথমে স্পিড টেস্ট করে দেখে নেওয়া উচিত। এতে বোঝা যাবে সমস্যাটি রাউটারে, ডিভাইসে নাকি ইন্টারনেট সংযোগে।

৮. পুরোনো রাউটার পরিবর্তনের কথা ভাবুন
অনেক পুরোনো রাউটার নতুন প্রযুক্তির ইন্টারনেট গতি সমর্থন করতে পারে না। ব্রডব্যান্ডের গতি বেশি হলেও পুরোনো ডিভাইসের কারণে কাঙ্ক্ষিত স্পিড পাওয়া যায় না।

৯. ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহার করুন
যদি আপনার রাউটার ডুয়েল-ব্যান্ড সমর্থন করে, তাহলে ২.৪ গিগাহার্টজের পরিবর্তে ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহার করলে দ্রুতগতির সংযোগ পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে ভিডিও স্ট্রিমিং ও গেমিংয়ের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।

১০. প্রয়োজনে আইএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করুন
সবকিছু ঠিক থাকার পরও যদি স্পিড কম থাকে, তাহলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাইনের অবস্থা বা নেটওয়ার্ক সমস্যার বিষয়টি যাচাই করা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াই-ফাই ধীরগতির হলেই নতুন বা বেশি দামের ব্রডব্যান্ড প্যাকেজ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় রাউটারের সঠিক অবস্থান, নিয়মিত রিস্টার্ট এবং আপডেট নিশ্চিত করলেই ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন দেখা যায়।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!