বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আজ মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় পেলেই শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে ম্যাচটির গুরুত্ব শুধু পয়েন্ট কিংবা নকআউট সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়। ভেন্যুর কারণেও ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে আর্জেন্টিনার জন্য।

বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১১টায় ডালাসে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। আর এই ডালাসই আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বেদনাদায়ক একটি নাম।

১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। পরে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, ‘ওরা আমার পা দুটো কেটে দিল।’ সেই বাক্য আজও আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসে গভীর ক্ষত হয়ে রয়েছে।

ম্যারাডোনার নিষেধাজ্ঞার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আর্জেন্টিনা। ডালাসের কটন বোল স্টেডিয়ামে বুলগেরিয়ার কাছে হেরে যায় দলটি। এরপর শেষ ষোলোতে রোমানিয়ার বিপক্ষে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যায় বিশ্বকাপ যাত্রা।

প্রায় ৩২ বছর পর আবার সেই ডালাসে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। যদিও এবার ম্যাচটি হবে আধুনিক ও বিশাল এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে। তবু শহরটির নাম শুনলেই আর্জেন্টাইনদের মনে ফিরে আসে ম্যারাডোনার অশ্রুসিক্ত মুখ আর হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের গল্প।

বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে থাকা অধিকাংশ ফুটবলারের জন্মই হয়নি ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সময়। তবে লিওনেল মেসি, নিকোলাস ওটামেন্দি, তাগলিয়াফিকো, দিবু মার্তিনেজদের মতো কয়েকজন সেই ইতিহাসের সাক্ষী। বাকিরা বড় হয়েছেন সেই বেদনার গল্প শুনেই।

এবার অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে দুর্দান্ত সূচনা করেছে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে গ্রুপপর্বের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নকআউট নিশ্চিত করতে চায় স্কালোনির শিষ্যরা।

ডালাসে আজকের ম্যাচ তাই শুধু অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তিন পয়েন্টের লড়াই নয়। এটি এক অর্থে অতীতের দুঃস্বপ্নকে পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস লেখারও সুযোগ। যে শহর একসময় ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিল, সেই শহরেই এবার মেসিদের সামনে অপেক্ষা করছে নতুন অধ্যায় রচনার মঞ্চ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!