ডলার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের ধাক্কা সামলে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের মোটরসাইকেলের বাজার। কয়েক বছর ধরে চলা মন্দাভাব কাটিয়ে বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে, যা খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বিশ্ব মোটরসাইকেল দিবসের প্রাক্কালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে দেশে খুচরা পর্যায়ে প্রায় ৫২ হাজার ৫০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। এক বছর আগে একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৪১ হাজার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরছে। পাশাপাশি বাজারে নতুন মডেলের মোটরসাইকেল আসায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেড়েছে। দীর্ঘদিন কেনাকাটা স্থগিত রাখা অনেক ক্রেতা এখন আবার শোরুমমুখী হচ্ছেন।

বিক্রির হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে জাপানি ও ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলো। মে মাসে ইয়ামাহা ১২ হাজার ৯০০টির বেশি মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সুজুকির বিক্রি বেড়েছে ৩৪ শতাংশ, হোন্ডার ২৪ শতাংশ এবং বাজাজের ৩৫ শতাংশ। টিভিএসের বিক্রি বেড়েছে ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে হিরো মোটোকর্পের বিক্রিও বেড়েছে ১০ শতাংশ।

শুধু মে মাস নয়, পুরো অর্থবছরের ১১ মাসের চিত্রেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত দেশে ৩ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলোর ডিলার পর্যায়ে সরবরাহও বেড়েছে। গত ১১ মাসে ডিলারদের কাছে ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। ফলে আগামী মাসগুলোতেও বাজার ইতিবাচক ধারায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মোটরসাইকেল খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়টি ছিল অত্যন্ত কঠিন। ডলারের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং করপোরেট কর বৃদ্ধির কারণে বাজারে বড় ধাক্কা লাগে। ২০২২ সালে যেখানে প্রায় ৬ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল, সেখানে ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ৩ লাখ ৯০ হাজারে।

বর্তমানে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া মোটরসাইকেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বা সংযোজিত হচ্ছে। এ খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে বাজারের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে স্থিতিশীল নীতিসহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!