চালের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বোরো মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সরু, মাঝারি ও মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরান বাজার ও তুরাগ এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেটের দাম এক দিনের ব্যবধানেই কেজিতে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ বাজারদর প্রতিবেদনে চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বাজারে বর্তমানে সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেট মানভেদে প্রতি কেজি ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের পাইজাম ও আটাশ চালের দাম ৫৫ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ইরি ও স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬০ টাকায়।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকেই বাড়তি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। তুরাগ এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক দিনে পাইকারি বাজারে চালের দাম বাড়ায় খুচরা বিক্রেতারাও বাধ্য হয়ে দাম সমন্বয় করছেন।

অন্যদিকে মিল মালিকদের দাবি, বর্তমানে কৃষকের হাতে ধান প্রায় নেই বললেই চলে। অধিকাংশ ধান বিভিন্ন মজুতদার ও ব্যবসায়ীর কাছে চলে গেছে। পাশাপাশি সরকারও অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ করছে। ফলে ধানের দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চালের বাজারে।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ এলাকার একটি চালকলের মালিক জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে সরু চালের দাম প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ধানের উচ্চমূল্যের কারণেই চালের দাম বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মক্তাদির। সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চালের বাজার ও সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মানের চালের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই কিছু মূল্য পার্থক্য থাকে এবং নতুন-পুরোনো চালের দামেও পার্থক্য দেখা যায়।

খাদ্যপ্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীও আশ্বস্ত করে বলেছেন, সরকারের হাতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা জরুরি চাহিদার তুলনায় বেশি। একই সঙ্গে চলমান ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের ফলে সরকারি মজুত আরও বাড়ছে। তাই চালের বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!