আইফোন, ম্যাকবুকসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রযুক্তিপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক। মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং সরবরাহ সংকটের কারণে ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিম কুক বলেন, প্রযুক্তিপণ্য তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এতদিন গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সেই সুযোগ দীর্ঘদিন থাকবে না।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ডেটা সেন্টারের ব্যাপক বিস্তারের কারণে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় এসব উপাদানের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ভোক্তাপণ্যের উৎপাদন ব্যয়ের ওপর।
টিম কুক বলেন, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যেসব উপাদান সংগ্রহ করা হয়, সেগুলোর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ডি-র্যাম চিপের সরবরাহ সংকট অ্যাপলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে উচ্চগতির মেমোরি চিপের বড় অংশ এআই সার্ভারে ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ প্রযুক্তিপণ্যের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে কবে থেকে দাম বাড়ানো হবে, কতটা বাড়বে বা কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি অ্যাপল প্রধান। তবুও তাঁর বক্তব্যের পর প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আইফোন ও ম্যাকবুকের দামে পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে অ্যাপল তাদের বহুল আলোচিত প্রথম ফোল্ডিং আইফোন উন্মোচন করতে পারে। একই অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সও বাজারে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন ডিভাইসগুলোর দাম আগের মডেলের তুলনায় বেশি হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
টিম কুক আরও জানান, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিরও প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে চীনের কিছু মেমোরি ও স্টোরেজ কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকায় বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজতে হচ্ছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে।
এদিকে রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ভবিষ্যতে আরও বেশি মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের চাহিদা তৈরি করবে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা না বাড়লে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!