পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে নকল, প্রশ্নফাঁস এবং ফলাফল জালিয়াতি ঠেকাতে বিদ্যমান আইনে বড় ধরনের সংশোধন আনছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের দশম বৈঠকে আইনটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে ১৯৮০ সালে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নতুন ধরনের অপরাধ বাড়তে থাকায় বিদ্যমান আইনের বেশ কিছু ধারা সময়োপযোগী ছিল না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আনা সংশোধনীতে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষাগুলোকে আরও সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং নকলমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামে নতুন অপরাধের অন্তর্ভুক্তি। এর আওতায় পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং, তথ্য বিকৃতি কিংবা অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

আইনে বলা হয়েছে, কেউ ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। পাশাপাশি সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা এ ধরনের অপরাধে জড়িত চক্র গঠন ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনলাইনভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা–সংক্রান্ত অপরাধের ধরনও বদলেছে। ফলে প্রশ্নফাঁস, ফলাফল পরিবর্তন কিংবা জালিয়াতির মতো অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী আইনি কাঠামো প্রয়োজন ছিল। নতুন সংশোধনী সেই প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারের আশা, নতুন আইন কার্যকর হলে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!