বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনায় মেতে উঠেছে বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক। প্রিয় দলের খেলা দেখতে টেলিভিশন কিংবা অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অনেকেই ভরসা করছেন বিভিন্ন ফ্রি স্ট্রিমিং ওয়েবসাইট ও অ্যাপের ওপর। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিনা খরচে খেলা দেখার লোভে এসব অননুমোদিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ, ইউরো কিংবা বড় কোনো ক্রীড়া আসর শুরু হলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রতারক চক্র। তারা জনপ্রিয় টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে ভুয়া ওয়েবসাইট, নকল অ্যাপ এবং বিভ্রান্তিকর লিংক তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ওয়েবসাইটের ডিজাইন এতটাই বাস্তবসম্মত হয় যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে আসল-নকল পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, ফ্রি অনলাইন স্ট্রিমিং সাইট ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। শুধু পাসওয়ার্ড নয়, ব্যাংকিং তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং ডিভাইসে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও হাতিয়ে নিতে পারে সাইবার অপরাধীরা।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্রি লাইভ স্ট্রিমিং লিংক খোঁজার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যে ‘এইচডি লাইভ লিংক’, ‘ফ্রি ম্যাচ দেখুন’ বা ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ ধরনের লিংক শেয়ার করতে দেখা যায়। এসব লিংকে ক্লিক করলেই অনেক সময় ব্যবহারকারীকে অন্য একটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয় অথবা কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এসব অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের ভেতরে ম্যালওয়্যার, ট্রোজান, স্পাইওয়্যার কিংবা ক্ষতিকর স্ক্রিপ্ট লুকিয়ে থাকতে পারে। ব্যবহারকারী অজান্তেই অনুমতি দিলে সেগুলো মোবাইল বা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
এদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে অনলাইন প্রতারণা বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করেছে কানাডা সরকারও। দেশটির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভুয়া স্ট্রিমিং সাইট, ফিশিং আক্রমণ এবং নকল অ্যাপের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাই ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, অনলাইনে প্রতারণার জন্য বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইট ও লিংক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি অনুসারী রয়েছে এমন পোস্টগুলোতে প্রতারকরা লিংক ছড়িয়ে দেয়। অনেক ব্যবহারকারী না বুঝেই সেখানে প্রবেশ করে প্রতারণার শিকার হন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে তারা ২৭৮টি সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের সন্ধান পেয়েছে। এর মধ্যে ১ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত ২৬৮টি এবং পরে আরও ১০টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ওয়েবসাইট বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।
প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, বিশ্বকাপ বা অন্য কোনো বড় টুর্নামেন্টের খেলা দেখতে হলে সবসময় অনুমোদিত সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত। অফিসিয়াল ব্রডকাস্টার, লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম কিংবা অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করা নির্ভরযোগ্য অ্যাপ ব্যবহার করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যে প্রিয় দলের খেলা দেখার আগ্রহ স্বাভাবিক। তবে কয়েক মিনিটের খেলা দেখতে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো বড় ঝুঁকি নেওয়া কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয় বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!