কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের পথে হাঁটছে চীন। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রায় ১২ হাজার কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক ডিগ্রি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনেক প্রচলিত ডিগ্রি বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এসব বিষয়ের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক নতুন কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, রোবোটিকস, মেশিন লার্নিং এবং স্মার্ট প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলোর মতে অনেক মানবিক ও কলা বিভাগের বিষয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেসব ডিগ্রিধারীদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। বিশেষ করে ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’ ও এআইনির্ভর প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের শিল্পখাতের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজারেরও বেশি নতুন ডিগ্রি ও কোর্স চালু হয়েছে। এর অধিকাংশই প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত। একই সময়ে ধীরে ধীরে কমানো হয়েছে এমন অনেক বিষয়, যেগুলোর চাকরির বাজারে চাহিদা কমে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছেন, এআই প্রযুক্তি এখন অনেক সৃজনশীল ও কারিগরি কাজ সহজ করে দিয়েছে। ডিজাইন তৈরি, ছবি সম্পাদনা, কনটেন্ট প্রস্তুত কিংবা বিভিন্ন ধরনের মডেলিংয়ের কাজও এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কিছু প্রচলিত পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ আগের তুলনায় সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুধু চীন নয়, বিশ্বের আরও অনেক দেশ শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের প্রয়োজন বিবেচনায় নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, আগামী দিনের চাকরির বাজারে শুধু সনদ নয়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বাস্তবমুখী জ্ঞানই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!