দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে রেলসেবা থেকে বঞ্চিত থাকা আরও ১০টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রেলসেবার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একাধিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী রেল যোগাযোগের আওতায় আসতে যাচ্ছে শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর এবং লক্ষ্মীপুর জেলা। বর্তমানে এসব জেলার অধিকাংশ মানুষ দূরপাল্লার যাতায়াতের জন্য সড়ক ও নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। রেল সংযোগ চালু হলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্প নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো রেল যোগাযোগের আওতায় এলে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। কৃষিপণ্য, মৎস্যসম্পদ এবং শিল্পপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের রেল অবকাঠামো উন্নয়নে আখাউড়া-সিলেট রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্প, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল সংযোগ প্রকল্প এবং ধীরাশ্রমে ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।
বর্তমানে সরকার রেলকে পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহন হিসেবে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সড়কপথের ওপর চাপ কমানো, জ্বালানি ব্যয় হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রেল খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। বিশেষ করে যেসব জেলা এখনো রেলসেবা থেকে বঞ্চিত, সেসব অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!