বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের আলোচিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তরাঞ্চল, ময়মনসিংহ বিভাগ এবং রাজধানী ঢাকার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু প্রকল্প সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গীকার। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরই সেতুর চূড়ান্ত অবস্থান, নকশা এবং নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় যমুনা সেতুর জন্য দুটি সম্ভাব্য রুট বিবেচনায় রয়েছে। একটি হলো বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ পর্যন্ত এবং অন্যটি গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জঘাট পর্যন্ত। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে যেকোনো একটি রুট চূড়ান্ত করা হবে।
বর্তমানে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে উত্তরাঞ্চল ও রাজধানীর মধ্যে যাতায়াত করছে। তবে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় দ্বিতীয় একটি সেতুর প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মিত হলে শুধু যানজট কমবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসবে। উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য এবং ব্যবসায়িক পরিবহন আরও দ্রুত রাজধানী ও সমুদ্রবন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সুযোগও তৈরি হবে।
সেতুমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে মোট ৬৭টি সেতুতে টোল আদায় করা হচ্ছে। টোল সরকারি রাজস্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার তা চালু বা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নয়টি সেতুতে টোল আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি সেতুতে পুনরায় টোল চালু হয়েছে, আর সাতটি সেতু এখনো টোলমুক্ত রয়েছে।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরেকটি বড় মাইলফলক যুক্ত হবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
এখন সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। কারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হতে পারে আগামী দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর একটি।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!