দেশের বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কাগজভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বিয়ে সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, যাচাই এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি পর্যায়ে চলমান আইন সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মাধ্যমে কাগজের খাতায় তথ্য সংরক্ষণের পরিবর্তে অনলাইনভিত্তিক ডাটাবেজে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য হারিয়ে যাওয়া, ভুল তথ্য সংযোজন, নথি জালিয়াতি কিংবা তথ্য যাচাইয়ে দীর্ঘসূত্রতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। ডিজিটাল রেকর্ড চালু হলে এসব সমস্যার অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে প্রয়োজন হলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে এবং প্রশাসনিক সেবাও দ্রুত পাওয়া যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক সময় বিবাহ, তালাক বা পারিবারিক বিভিন্ন আইনি বিষয়ে পুরোনো রেজিস্ট্রেশন নথি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ডিজিটাল ডাটাবেজ চালু হলে এসব তথ্য সহজেই অনুসন্ধান ও যাচাই করা যাবে। এতে আদালত, প্রশাসন এবং সাধারণ নাগরিক—সবার জন্যই সুবিধা তৈরি হবে।
এছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতেও ডিজিটাল পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন এবং অন্যান্য সরকারি ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বয়স যাচাই আরও সহজ হবে। ফলে ভুয়া তথ্য দিয়ে বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ কমে আসবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, কাজি অফিস এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে বিবাহ নিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে সরকারি সেবাগুলোকে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনা হচ্ছে। বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন সেই ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও নতুন ব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, এটি বাস্তবায়িত হলে বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য হবে। পাশাপাশি জালিয়াতি, তথ্য গোপন এবং নথি সংক্রান্ত জটিলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে– ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!