রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা কমাতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রাজধানীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার অভ্যন্তরে ভারী যানবাহনের চাপ কমবে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।

সম্প্রতি যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে অবস্থিত বাস টার্মিনালগুলোকে শহরের বাইরে বা প্রান্তিক এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব টার্মিনাল রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে মহাখালী বাস টার্মিনালকে অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হতে পারে। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে এটি উত্তরা তৃতীয় পর্যায়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের জন্য আধুনিক পরিবহন হাব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করে কাঞ্চপুর এলাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে এই স্থানকে উপযুক্ত মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত টার্মিনাল গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনালকে স্থানান্তর করা হতে পারে হেমায়েতপুর এলাকায়। ঢাকার পশ্চিম প্রবেশপথে আধুনিক ও বৃহৎ পরিবহন কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে গাবতলী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট কমানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এছাড়া ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের জন্য কেরানীগঞ্জকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুরান ঢাকা ও গুলিস্তান এলাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক বাস প্রবেশ করায় যে যানজট তৈরি হয়, তা কমাতে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থাকার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস নগরীর ভেতরে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়। ফলে শুধু যানজটই নয়, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। টার্মিনালগুলো শহরের প্রান্তে সরিয়ে নেওয়া গেলে যাত্রীরা সেখান থেকে মেট্রোরেল, বিআরটি, মনোরেল বা অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবহার করে সহজেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

সরকার ইতোমধ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, মনোরেল ফিডার নেটওয়ার্ক চালু এবং বৈদ্যুতিক বাস চালুর মতো বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগকে সেই বৃহৎ নগর পরিবহন সংস্কারের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তবে পরিবহন মালিক ও যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নতুন টার্মিনালগুলোতে আধুনিক যাত্রীসেবা, পর্যাপ্ত পার্কিং, ডিজিটাল টিকিটিং এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানী ঢাকার যানজট পরিস্থিতির উন্নয়নে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে– ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!