দেশে হামের প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৯০০ শিশু। এতে চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণে মোট প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে একজন ঢাকায়, একজন ময়মনসিংহে, একজন সিলেটে এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা।
একই সময়ে নতুন করে ৮৯০-এর বেশি শিশুর শরীরে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজারেরও বেশি শিশু। এ সময় কয়েক হাজার শিশুকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে চিকিৎসা শেষে বিপুলসংখ্যক শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু সময়মতো টিকা নেয়নি, তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, সর্দি কিংবা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!