বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হয়েছে। রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে উন্নয়ন ও সংস্কারসংক্রান্ত মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

সরকারি সূত্র জানায়, দেশব্যাপী জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তার মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও নীতিমালাভিত্তিক করতে শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এ সম্মেলনে।

সম্মেলন চলবে মোট ৩০টি অধিবেশনে। এতে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পৃথক কার্য অধিবেশনেও অংশ নেবেন তারা।

সূচি অনুযায়ী, আজ রাত সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন জেলা প্রশাসকরা। আগামীকাল সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে এবং মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, মাঠ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমন্বয় জোরদার এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে এবারের সম্মেলনের বাজেট কমিয়ে ৭১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কম।

ডিসিদের উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোতে জনসেবা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এছাড়া শিল্পায়ন, কৃষি উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে এসেছে। গত বছরের সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।