বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলকে আলাদা করে চেনার অন্যতম প্রতীক তাদের উজ্জ্বল হলুদ জার্সি। মাঠে নামলেই সবুজ-হলুদের সেই পরিচিত রঙ ফুটবলপ্রেমীদের মনে এনে দেয় পেলে, জিকো, রোনালদো কিংবা নেইমারদের স্মৃতি। তবে অনেকেরই জানা নেই, ব্রাজিলের এই বিখ্যাত হলুদ জার্সির পেছনে লুকিয়ে আছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক এক অধ্যায়।

এক সময় ব্রাজিলের জার্সি ছিল সাদা

বর্তমানের হলুদ জার্সি নয়, ১৯৫০ সালের আগে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল খেলত সাদা জার্সি পরে। সে সময় দেশটির জাতীয় দলের আনুষ্ঠানিক পোশাক ছিল সাদা রঙের।

আরও পড়ুন- বিশ্বকাপের আগেই বিপত্তি, ফাঁস হলো মেসিসহ আর্জেন্টিনা দলের পাসপোর্ট তথ্য

১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায় ব্রাজিল। নিজেদের মাটিতে আয়োজিত সেই আসরে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদারও ছিল তারা। কিন্তু ফাইনাল পর্বে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল।

রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে প্রায় দুই লাখ দর্শকের সামনে ঘটে যাওয়া সেই হার ইতিহাসে ‘মারাকানাজো’ বা ‘মারাকানা ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত।

পরাজয়ের পর বদলে যায় জার্সি

সেই হারের পর পুরো ব্রাজিলে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেক সমর্থক ও ক্রীড়া বিশ্লেষক সাদা জার্সিকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

এরপর ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেয়, জাতীয় দলের জন্য নতুন জার্সি তৈরি করা হবে, যাতে দেশের জাতীয় পতাকার রং প্রতিফলিত হয়।

১৯ বছর বয়সী এক তরুণের নকশা

১৯৫৩ সালে নতুন জার্সির জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি ডিজাইন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন মাত্র ১৯ বছর বয়সী তরুণ ডিজাইনার আলদির গার্সিয়া শ্লি। তাঁর নকশাতেই প্রথমবারের মতো দেখা যায় হলুদ শার্ট, সবুজ কলার ও ট্রিম, নীল শর্টস এবং সাদা মোজার সমন্বয়।

এই জার্সিই পরে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় ‘ক্যানারিনহো’ নামে।

১৯৫৪ সালে প্রথম মাঠে নামে নতুন জার্সি

১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামে ব্রাজিল। এরপর ধীরে ধীরে এই জার্সি শুধু একটি খেলার পোশাক নয়, বরং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে ওঠে।

এই জার্সি গায়ে খেলেছেন ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তিরা। পেলে, গ্যারিঞ্চা, জাইরজিনহো, জিকো, সক্রেটিস, রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনহো থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের তারকারাও এই জার্সিকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য মর্যাদা এনে দিয়েছেন।

১৯৫৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে শুরু হয় ব্রাজিলের সোনালি অধ্যায়। এরপর ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে আরও চারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে সেলেসাওরা।

তবে ইতিহাস সবসময় সুখের ছিল না। ২০১৪ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয় আবারও পুরোনো ক্ষতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।

একটি বিষয় নিশ্চিত ব্রাজিলের হলুদ জার্সি শুধু একটি রঙ নয়, এটি ইতিহাস, আবেগ এবং পুনর্জন্মের এক অনন্য প্রতীক।

আরও পড়ুন- বিশ্বকাপ উপলক্ষে মেক্সিকোতে স্কুল-কলেজ বন্ধ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥