ব্র্যাক ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য লেনদেনে ক্যাশব্যাকের সুবিধা চালু করেছিল ব্যাংকটি। ‘Debit Card Spend & Earn Campaign’ নামে এই ক্যাম্পেইনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ডেবিট কার্ড দিয়ে লেনদেন করলে ১ শতাংশ ক্যাশব্যাক দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী ক্যাম্পেইনটি ১ মে ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর ছিল। ফলে বর্তমানে এটি চলমান অফার নয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী, ক্যাম্পেইনের আওতায় ডেবিট কার্ডধারীরা যেকোনো পরিমাণ অর্থ খরচের বিপরীতে ১ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে ক্যাশব্যাকের পরিমাণের ওপর নির্দিষ্ট সীমা ছিল। একজন গ্রাহক প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং পুরো ক্যাম্পেইন চলাকালে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পেতে পারতেন। অর্থাৎ শুধু লেনদেন করলেই সীমাহীন ক্যাশব্যাক পাওয়া যেত না; ব্যাংকের নির্ধারিত মাসিক ও ক্যাম্পেইনকালীন সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য ছিল।

এই ক্যাশব্যাক সুবিধা সব ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না। ব্র্যাক ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, ক্যাম্পেইনে POS, QR এবং e-commerce বা অনলাইন লেনদেন বিবেচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ATM এবং MFS লেনদেন এই ক্যাম্পেইনের আওতার বাইরে ছিল। ফলে এটিএম থেকে টাকা তোলা কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে লেনদেন করলেই এই ক্যাম্পেইনের ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ ছিল না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, ব্র্যাক ব্যাংকের সব ডেবিট কার্ড গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়ার যোগ্য ছিলেন না। ব্যাংকের প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ডেবিট কার্ডহোল্ডার ক্যাম্পেইন সম্পর্কে ব্র্যাক ব্যাংকের কাছ থেকে SMS অথবা ই-মেইল পেয়েছিলেন, কেবল তারাই এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অর্থাৎ যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পাঠানো অফার কমিউনিকেশন গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ক্যাশব্যাক পাওয়ার ক্ষেত্রে লেনদেনের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গ্রাহকরা POS মেশিনে কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা, অনুমোদিত QR পেমেন্ট এবং অনলাইন বা e-commerce লেনদেনের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের শর্ত পূরণ করতে পারতেন। তবে লেনদেন করার আগে সংশ্লিষ্ট কার্ডটি ক্যাম্পেইনের জন্য নির্বাচিত কি না, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। এতে পরবর্তীতে ক্যাশব্যাক না পাওয়ার মতো বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে যোগ্য গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ক্যাশব্যাক দেওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পেইনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ব্যাংকের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী যোগ্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

ডেবিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—সব সময়কার সাধারণ কার্ড লেনদেনের ওপর ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ব্যাংক সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আলাদা ক্যাম্পেইন চালু করে এবং সেখানে অংশগ্রহণের যোগ্যতা, লেনদেনের ধরন, ক্যাশব্যাকের হার, সর্বোচ্চ সীমা ও অফারের মেয়াদ উল্লেখ থাকে। তাই কোনো অফার দেখলে সেটি বর্তমানে কার্যকর কি না এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত কী, তা আগে যাচাই করা উচিত।

ব্র্যাক ব্যাংক এর আগেও বিভিন্ন সময় ডেবিট কার্ডধারীদের জন্য নির্দিষ্ট মার্চেন্ট ও লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্যাশব্যাক বা ছাড়ের সুবিধা দিয়েছে। যেমন ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রচারণায় টিকিট কেনাকাটা, অনলাইন শপিং, লাইফস্টাইল পণ্য এবং ইলেকট্রনিকস কেনাকাটায় ডেবিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা ক্যাশব্যাক বা ছাড়ের অফার ছিল। এসব অফারের মেয়াদ ও শর্ত একেকটির ক্ষেত্রে আলাদা ছিল।

তাই ‘ব্র্যাক ব্যাংক ডেবিট কার্ডে ট্রানজ্যাকশন করলেই মিলবে ক্যাশব্যাক’—এই শিরোনামটি মূলত ব্যাংকের ওই ক্যাম্পেইনের সুবিধাকে বোঝালেও বর্তমানে এটিকে চলমান অফার হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ শতাংশ ক্যাশব্যাকের ‘Debit Card Spend & Earn Campaign’ ৩১ জুলাই ২০২৬-এ শেষ হয়েছে। নতুন কোনো ক্যাশব্যাক ক্যাম্পেইন চালু হলে তার সময়সীমা ও শর্ত আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে।

গ্রাহকদের সর্বশেষ অফার সম্পর্কে জানতে ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ২৪ ঘণ্টার কল সেন্টার ১৬২২১-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে। ব্যাংক নিজেই জানিয়েছে, প্রয়োজনে ক্যাম্পেইনের শর্ত পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন বা বাতিল করার অধিকার তাদের রয়েছে। তাই পুরোনো কোনো ক্যাশব্যাক অফারের তথ্য দেখে বর্তমানে একই সুবিধা পাওয়া যাবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে– ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতেইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!