ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা ও পারিবারিক বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে অনেকেরই বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পেতে বিকাশ অ্যাপের ডিজিটাল লোন সেবা ব্যবহার করতে পারেন যোগ্য গ্রাহকরা। বর্তমানে বিকাশের মাধ্যমে যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল লোন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকলেই প্রত্যেক গ্রাহক ৫০ হাজার টাকা লোন পাবেন—এমন নয়। গ্রাহকের লেনদেনের ধরন ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে লোনের যোগ্যতা ও সীমা নির্ধারণ করা হয়।
বিকাশের ডিজিটাল লোন সেবা মূলত নির্দিষ্ট যোগ্য গ্রাহকদের জন্য চালু থাকে। কোনো গ্রাহকের অ্যাপে লোন সুবিধা চালু থাকলে তিনি বিকাশ অ্যাপের নির্ধারিত লোন অপশন থেকে নিজের জন্য অনুমোদিত অর্থের সীমা দেখতে পারবেন। এই সীমা গ্রাহকভেদে আলাদা হতে পারে। কারও জন্য কয়েকশ টাকা, কারও জন্য কয়েক হাজার টাকা আবার যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোনের সীমা দেখা যেতে পারে। তাই ৫০ হাজার টাকা লোন পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন করে সবার একই সীমা পাওয়ার সুযোগ নেই।
লোনের যোগ্যতা বাড়াতে বিকাশ অ্যাকাউন্ট নিয়মিত ও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ব্যালেন্স রাখা এবং অ্যাড মানি, পেমেন্ট, সেভিংসসহ বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে লোনের যোগ্যতা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব ব্যবহার করলেই যে নির্দিষ্ট পরিমাণ লোন নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত মূল্যায়ন ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই লোনের সীমা নির্ধারণ করা হয়।
যাদের বিকাশ অ্যাপে লোন সুবিধা চালু রয়েছে, তারা অ্যাপের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারেন। লোন নেওয়ার আগে অ্যাপেই অনুমোদিত লোনের পরিমাণ, প্রযোজ্য সুদের হার, প্রসেসিং ফি এবং পরিশোধের শর্ত দেখানো হয়। এসব তথ্য ভালোভাবে দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী লোনের পরিমাণ নির্বাচন করতে হয়। ডিজিটাল প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণত কাগজপত্র বা জামানতের প্রয়োজন হয় না। তবে অ্যাকাউন্টের তথ্য আপডেট থাকা জরুরি এবং প্রয়োজন হলে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদ বা e-KYC সম্পন্ন করতে হতে পারে।
বিকাশের ডিজিটাল লোনের ক্ষেত্রে সুদ ও অন্যান্য চার্জ প্রযোজ্য। লোন নেওয়ার আগে গ্রাহকের অ্যাপে প্রযোজ্য সুদের হার দেখানো হয় এবং গ্রাহকভেদে শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে। বিকাশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল লোনে বার্ষিক সুদের হার দৈনিক ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। একই সঙ্গে লোনের ওপর প্রসেসিং ফিও প্রযোজ্য। তাই শুধু হাতে কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখলেই হবে না; মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সেটিও লোন নেওয়ার আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
লোন নেওয়ার পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় টাকা থাকলে কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হতে পারে। গ্রাহক চাইলে নির্ধারিত সময়ের আগেও লোন পরিশোধের সুযোগ পান। ফলে লোন নেওয়ার আগে নিজের আয় ও পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করা ভবিষ্যতে ডিজিটাল লোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হতে পারে।
ঈদের আগে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ নেওয়া। শুধু অ্যাপে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোনের সীমা দেখাচ্ছে বলেই পুরো অর্থ নেওয়া প্রয়োজন নেই। যতটুকু অর্থ প্রয়োজন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা সম্ভব, ততটুকুই নেওয়া উচিত। কারণ লোনের সঙ্গে সুদ ও প্রসেসিং ফি যুক্ত থাকে। ফলে ঈদের খরচ মেটাতে লোন নেওয়ার আগে ভবিষ্যতের কিস্তির চাপও বিবেচনায় রাখা দরকার।
এদিকে বিকাশের লোন সুবিধা পেতে কোনো দালাল, ফেসবুক পেজ বা অপরিচিত ব্যক্তির সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনো ব্যক্তি যদি বিকাশ লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আগে টাকা, OTP, PIN বা ব্যক্তিগত তথ্য চায়, তাহলে তার সঙ্গে লেনদেন করা উচিত নয়। নিজের বিকাশ অ্যাপেই লোন সুবিধা চালু আছে কি না এবং কত টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে, তা যাচাই করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য বিকাশ PIN বা OTP কখনোই অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়।
সবশেষে বলা যায়, ঈদের আগে জরুরি আর্থিক প্রয়োজন থাকলে বিকাশের ডিজিটাল লোন যোগ্য গ্রাহকদের জন্য একটি দ্রুত ঋণসুবিধা হতে পারে। তবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোনের সীমা থাকলেও প্রত্যেক গ্রাহক সমান পরিমাণ লোন পাবেন না। গ্রাহকের জন্য অ্যাপে যে সীমা দেখানো হবে, সেটিই তার অনুমোদিত সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই লোন নেওয়ার আগে সুদ, প্রসেসিং ফি, মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ ও কিস্তির সময়সূচি ভালোভাবে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।