দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ মার্চ) থেকে। প্রথম ধাপে রাজধানীর কয়েকটি বস্তি এলাকায় এই কর্মসূচি চালু করা হবে। উদ্বোধনের দিনই সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের নগদ সহায়তাও পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে শুরু হতে যাওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দেশের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন-বান্দরবানে শুরু ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ১,০৯৭ পরিবার পাবে মাসে ২,৫০০ টাকা

উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মসূচির শুরুতেই নির্বাচিত পরিবারগুলোকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রথম মাসের সহায়তা পাঠানো হবে।

এদিকে, প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জানাতে আজ সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

বিভিন্ন জেলায় একযোগে কার্যক্রম

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

  • অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী থাকবেন চট্টগ্রামে।

  • বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির থাকবেন সুনামগঞ্জে।

যেসব এলাকায় পাইলট কার্যক্রম শুরু

প্রথম ধাপে রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা ও উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এসব এলাকা হলো—

ঢাকা:

  • কড়াইল বস্তি।

  • সাততলা বস্তি।

  • ভাসানটেক বস্তি।

  • মিরপুর সার্কেল (শাহ আলী, ওয়ার্ড–৮)।

  • আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড–১৪)।

  • বাগানবাড়ি বস্তি এলাকা।

জেলার মধ্যে রয়েছে:

  • রাজবাড়ীর পাংশা।

  • চট্টগ্রামের পটিয়া।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর।

  • বান্দরবানের লামা।

  • খুলনার খালিশপুর।

  • ভোলার চরফ্যাশন।

  • সুনামগঞ্জের দিরাই।

  • কিশোরগঞ্জের ভৈরব।

  • বগুড়া সদর।

  • নাটোরের লালপুর।

  • ঠাকুরগাঁও সদর।

  • দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ।

মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা

এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

কমিটি গঠন

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, তদারকি এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা নির্ধারণ করবে।

দরিদ্র পরিবারকে সহায়তায় নতুন উদ্যোগ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত নগদ সহায়তার মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে কিছুটা স্বস্তি আসবে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন-ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥