দেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন-কৃষক কার্ড কিভাবে পাবেন? আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জানুন

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, শুধু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পরিত্যক্ত ভবনের সংখ্যা প্রায় ১৭০টি। এসব ভবন সংস্কার করে ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বৈঠকে জানানো হয়, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৪ লাখ নবজাতকের জন্ম হয়। এই পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট দূর করতে নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার বিষয়টি সভায় তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী এবং ২০ শতাংশ পুরুষ থাকবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রায় ৭৪ হাজার শূন্য পদে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

প্রধানমন্ত্রী দূর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসা সেবা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সেলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সরকারি নার্সারির পাশাপাশি বেসরকারি নার্সারি থেকেও চারা সংগ্রহ করা হবে। খাসজমি, চরাঞ্চল, নদীর তীর, সড়ক-মহাসড়কের পাশে, বনাঞ্চল এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরও একটি করে গাছ লাগানো ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে প্রধানমন্ত্রী আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও জনসেবামূলক কার্যক্রম জোরদার রাখতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

আরও পড়ুন-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, উপকৃত হবেন ১২ লাখ কৃষক

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥