পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালনকালে দৈনন্দিন নানা বিষয় নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে মুখের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতে দিনের বেলায় টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের দ্বিধা রয়েছে। রোজার সময় টুথপেস্ট বা মাজন ব্যবহার করলে রোজার ক্ষতি হয় কি না, শরিয়ত এ বিষয়ে কী বলে—তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন-একা নামাজে কেরাত কীভাবে পড়বেন?

রোজা রেখে টুথপেস্ট ব্যবহারের বিধান

ফিকহ অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথপাউডার, টুথপেস্ট বা স্বাদযুক্ত মাজন দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মাকরুহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কারণ এসব উপাদানে সাধারণত মিষ্টি, ঝাঁঝালো বা তিতকুটে স্বাদ থাকে। রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে স্বাদ গ্রহণ করা পরিহারযোগ্য।

তবে এখানে মূল বিষয় হলো—যদি ব্রাশ করার সময় টুথপেস্টের কোনো অংশ বা স্বাদ গলার ভেতরে প্রবেশ করে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এ কারণে ফিকহবিদরা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

ফিকহের গ্রন্থে কী বলা হয়েছে

প্রসিদ্ধ ফিকহ গ্রন্থ আল-বাহরুর রায়েক–এ উল্লেখ রয়েছে, রোজাদারের জন্য স্বাদযুক্ত বস্তু ব্যবহার করা মাকরুহ। আর যদি তা গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়।

অর্থাৎ শুধু ব্যবহার করাই মূল সমস্যা নয়, বরং গলার ভেতরে পৌঁছানোই রোজা ভঙ্গের কারণ।

মেসওয়াক ব্যবহারের সুন্নত

রোজা অবস্থায় মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম পদ্ধতি হলো মেসওয়াক ব্যবহার। হাদিসে মেসওয়াকের গুরুত্ব সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—

السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ
“মেসওয়াক মুখের পবিত্রতার মাধ্যম এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ।”
সহিহ বুখারি (হাদিস: ৮৮৭)

এ কারণে রমজান মাসে দিনের বেলায় টুথপেস্টের পরিবর্তে মেসওয়াক ব্যবহার করাই উত্তম ও নিরাপদ বলে আলেমরা মত দিয়েছেন।

কখন ব্রাশ করা উত্তম

যারা টুথপেস্ট ব্যবহার করতে চান, তারা সেহরির পর ফজরের আগে অথবা ইফতারের পর রাতে ব্রাশ করলে ঝুঁকি থাকে না। এতে রোজার সময় সন্দেহ বা ঝুঁকির সম্ভাবনাও এড়ানো যায়।

করণীয় কী

  • দিনের বেলায় টুথপেস্ট ব্যবহার না করাই উত্তম।

  • ব্যবহার করলে গলায় না যায়—সেদিকে বিশেষ সতর্কতা।

  • মেসওয়াক ব্যবহার করা সুন্নত ও নিরাপদ।

  • রোজার পবিত্রতা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

উপসংহার

রোজা অবস্থায় মুখের পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শরিয়তের বিধান মানা আরও বেশি জরুরি। তাই দিনের বেলায় টুথপেস্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং মেসওয়াক ব্যবহার করা অধিক নিরাপদ পন্থা। সচেতনতা ও সতর্কতার মাধ্যমে রোজার পবিত্রতা অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব।

আরও পড়ুন-ভোটের অমোচনীয় কালি থাকলেও অজু নামাজ সহিহ হবে কি?

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥