বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন ধরনের কার্ডসেবা চালু করেছে Prime Bank PLC। Mastercard-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ব্যাংকটি তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম Prime NOW-এর আওতায় দেশের প্রথম Numberless Debit Card চালু করেছে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এ কার্ডের উদ্বোধন করা হয়। প্রচলিত ডেবিট কার্ডের তুলনায় নতুন এই কার্ডের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—কার্ডের গায়ে কার্ড নম্বর, CVV এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ (Expiry Date) ছাপা থাকে না।
সাধারণ ডেবিট কার্ডে কার্ড নম্বর, CVV ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ কার্ডের ওপর দৃশ্যমান থাকে। ফলে কার্ডটি অন্য কারও হাতে গেলে বা কার্ডের তথ্য সরাসরি দেখা গেলে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। Prime NOW Mastercard Numberless Debit Card-এ এসব তথ্য দৃশ্যমান না রাখার মাধ্যমে এই ধরনের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে কার্ডে তথ্য ছাপা না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কার্ডের প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে এবং অনুমোদিত ব্যবহারকারী তা অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পারেন।
নতুন কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এর প্রয়োজনীয় তথ্য Prime NOW অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করা যায়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপে সংরক্ষিত কার্ডের তথ্য একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা হয়। এর মধ্যে ঐচ্ছিক বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সুবিধাও রয়েছে। ফলে অনলাইন লেনদেনের প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারী অ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্ড তথ্য দেখতে পারবেন। এতে কার্ডের গায়ে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ্যে রাখার প্রয়োজন পড়ে না।
কার্ডটিতে শুধু তথ্য গোপন রাখার ব্যবস্থা নয়, অ্যাপভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Prime NOW ব্যবহার করে কার্ড সক্রিয় করার জন্য QR-ভিত্তিক অ্যাক্টিভেশন, ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটালভাবে কার্ড পুনরায় ইস্যুর মতো সুবিধা রয়েছে। ফলে কার্ড ব্যবহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সরাসরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
Numberless Debit Card-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো কার্ড হারিয়ে গেলে বা কোথাও পড়ে গেলে দৃশ্যমান কার্ড তথ্য না থাকার কারণে তথ্য চুরি বা সরাসরি দেখে নেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমে যায়। তবে কার্ড হারিয়ে গেলে সেটিকে নিরাপদ রাখতে দ্রুত ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। Prime Bank-এর কার্ডসেবা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, কার্ড হারানো বা চুরি হলে ব্যাংকের যোগাযোগকেন্দ্রে জানিয়ে কার্ড ব্লক করার ব্যবস্থা রয়েছে।
নতুন এই কার্ডে Mastercard-এর বিভিন্ন সুবিধাও রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারীরা বাংলাদেশের ১০ হাজারের বেশি Mastercard পার্টনার মার্চেন্টে বছরজুড়ে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি কার্ডের ডিজাইন বেছে নেওয়া, কার্ডে প্রদর্শিত নাম ব্যক্তিগতভাবে নির্ধারণ এবং অ্যাপের মাধ্যমে ই-কমার্স সুবিধা চালু করার মতো অপশনও রাখা হয়েছে।
Prime Bank-এর এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় একটি নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ বর্তমান সময়ে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পাশাপাশি গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং নিজস্ব নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। Numberless Card-এর ধারণাটি মূলত কার্ডের গায়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ না করে ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করার ওপর গুরুত্ব দেয়। Mastercard-এর সঙ্গে Prime Bank-এর এই উদ্যোগ সেই দিক থেকে দেশের কার্ডসেবায় নতুন প্রযুক্তিগত ধারণা যুক্ত করেছে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা দরকার, Numberless Debit Card মানে কার্ডটির কোনো নম্বর নেই—এমন নয়। বরং কার্ড নম্বর, CVV ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের মতো তথ্য কার্ডের ওপর দৃশ্যমানভাবে ছাপা থাকে না। প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটালভাবে Prime NOW অ্যাপে সংরক্ষিত থাকে। ফলে এটি মূলত একটি দৃশ্যমান তথ্যবিহীন বা ‘নম্বরবিহীন’ ফিজিক্যাল কার্ডের ধারণা, যেখানে কার্ড ব্যবহারের প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
Prime Bank-এর পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে গ্রাহকের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান তানজিল চৌধুরী এবং Mastercard বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নতুন কার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। Mastercard-এর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, গ্রাহকের গোপনীয়তা ও ডিজিটাল লেনদেনের ওপর নিয়ন্ত্রণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে Numberless Card প্রযুক্তি নতুন ধরনের নিরাপদ ও সহজ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে Prime Bank ও Mastercard-এর Numberless Debit Card একটি নতুন প্রযুক্তিগত সংযোজন। কার্ডের সামনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না থাকা, Prime NOW অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য ব্যবস্থাপনা, একাধিক স্তরের নিরাপত্তা এবং অ্যাপভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ—এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রচলিত ডেবিট কার্ডের তুলনায় এর ব্যবহারের ধরন কিছুটা আলাদা। তবে কার্ডের ফি, আবেদনযোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত জানতে আগ্রহী গ্রাহকদের Prime Bank-এর সর্বশেষ অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করা উচিত, কারণ ব্যাংকের সেবা ও চার্জ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!