বিকাশে নিয়মিত লেনদেন করেন এমন অনেক গ্রাহকেরই অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস, রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং পয়েন্টের মেয়াদ নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে রিওয়ার্ড পয়েন্ট জমা হওয়ার পর সেগুলো কতদিন ব্যবহার করা যাবে, বর্তমান রিওয়ার্ড লেভেল কোথায় দেখা যাবে কিংবা অ্যাকাউন্ট সচল আছে কি না—এসব তথ্য জানা থাকলে বিভিন্ন সুবিধা সময়মতো নেওয়া সহজ হয়। বিকাশের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপের নির্দিষ্ট সেকশন থেকেই রিওয়ার্ড পয়েন্ট, লেভেল অগ্রগতি এবং বিভিন্ন অফার সম্পর্কে তথ্য দেখা যায়।
প্রথমে জানা দরকার, বিকাশের রিওয়ার্ড পয়েন্ট কোনো সাধারণ নগদ টাকা নয়। নিয়মিত বিকাশের বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করার মাধ্যমে গ্রাহকরা রিওয়ার্ড পয়েন্ট অর্জন করতে পারেন এবং সেই পয়েন্ট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট রিওয়ার্ড বা ক্যাশব্যাক ধরনের অফার সংগ্রহ করা যায়। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, সেন্ড মানি, পেমেন্ট, পে বিল, মোবাইল রিচার্জ, অ্যাড মানি, সেভিংস, লোন এবং বিকাশ টু ব্যাংকসহ বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নিয়মে পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি লেনদেনে কত পয়েন্ট পাওয়া যাবে, সেটি বিকাশের প্রযোজ্য নিয়ম ও অফারের ওপর নির্ভর করে।
রিওয়ার্ড পয়েন্টের বর্তমান অবস্থা ও লেভেল দেখতে বিকাশ অ্যাপের ‘রিওয়ার্ডস’ সেকশনে যেতে হবে। বিকাশের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অ্যাপের ‘রিওয়ার্ডস’ সেকশন অথবা ‘আমার বিকাশ’ অংশের ‘বিকাশ রিওয়ার্ডস’ অপশন থেকে গ্রাহক তার পয়েন্টের অগ্রগতি ও বর্তমান লেভেল দেখতে পারবেন। সেখানে লেভেল অগ্রগতি মিটার থেকেও বোঝা যায়, পরবর্তী লেভেলে যেতে আরও কতটা অগ্রগতি প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় পয়েন্ট অর্জন হলে গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী লেভেলে যেতে পারেন।
রিওয়ার্ড পয়েন্টের মেয়াদ নিয়েও গ্রাহকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিকাশের বর্তমান রিওয়ার্ডস সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, অর্জনের পর রিওয়ার্ড পয়েন্টের মেয়াদ ১২ ক্যালেন্ডার মাস। এই সময়ের মধ্যে ব্যবহার না করা পয়েন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখা পয়েন্ট সবসময় ব্যবহারযোগ্য থাকবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনো পয়েন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিকাশ অ্যাপের রিওয়ার্ডস সেকশন দেখে ব্যবহারযোগ্য রিওয়ার্ড বা অফার গ্রহণ করা সুবিধাজনক।
রিওয়ার্ড পয়েন্ট ব্যবহার করে কী পাওয়া যাবে, সেটিও সময় ও অফারভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। বিকাশের বর্তমান রিওয়ার্ডস ব্যবস্থায় ব্যবহারযোগ্য পয়েন্ট দিয়ে বিভিন্ন ক্যাশব্যাক ধরনের রিওয়ার্ড সংগ্রহ করা যায়। কোনো কোনো প্রচারণায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পয়েন্ট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লেনদেন সম্পন্ন করলে ক্যাশব্যাক দেওয়ার সুযোগ থাকে। তাই শুধু পয়েন্টের সংখ্যা দেখলেই হবে না; কোন পয়েন্ট দিয়ে বর্তমানে কী অফার পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বিকাশ অ্যাপের ‘বিকাশ রিওয়ার্ডস’ সেকশন থেকে দেখে নেওয়া উচিত।
অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস সচল আছে কি না, সেটিও বিভিন্ন সেবা ও অফার ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশের বিভিন্ন বর্তমান অফারের শর্তে বলা হয়েছে, সুবিধা পাওয়ার জন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট স্ট্যাটাস এবং ইনকামিং লেনদেন সচল থাকা প্রয়োজন হতে পারে। স্ট্যাটাস-সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে কোনো অফার, ক্যাশব্যাক বা নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়া ব্যর্থ হতে পারে। তাই কোনো সেবা বা অফার কাজ না করলে শুধু ব্যালেন্স পরীক্ষা না করে অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাসে কোনো সমস্যা আছে কি না সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
বিকাশ অ্যাপে অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য বা স্টেটমেন্ট দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিকাশের FAQ অনুযায়ী, নতুন অ্যাপের হোমস্ক্রিনের ওপরের ডানদিকে থাকা বিকাশের পাখি আইকনে ট্যাপ করলে বিকাশ মেনু পাওয়া যায়। সেখান থেকে স্টেটমেন্ট ও লিমিট আলাদাভাবে দেখা যায়। বিকাশ জানিয়েছে, স্টেটমেন্টের লেনদেন-সারসংক্ষেপে বর্তমান মাস এবং তার আগের দুই মাসের লেনদেনের তথ্য দেখা যায়। ফলে অ্যাকাউন্টে সাম্প্রতিক লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও গ্রাহক সহজে যাচাই করতে পারেন।
তবে ‘অ্যাকাউন্টের মেয়াদ’ বলতে রিওয়ার্ড পয়েন্টের মেয়াদ এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়। রিওয়ার্ড পয়েন্টের নির্দিষ্ট ১২ ক্যালেন্ডার মাসের মেয়াদ থাকলেও একটি অ্যাকাউন্টের সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় স্ট্যাটাস আলাদা বিষয়। বিকাশের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস ও ইনকামিং লেনদেন সচল থাকার শর্ত থাকতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট কতদিনের জন্য বৈধ—এমন একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ হিসেবে বিষয়টি না দেখে নিজের অ্যাকাউন্টের বর্তমান স্ট্যাটাস ও সংশ্লিষ্ট সেবার শর্ত যাচাই করাই নিরাপদ।
কোনো গ্রাহকের অ্যাপ থেকে তথ্য দেখা না গেলে বা অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে বিকাশের অফিসিয়াল গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করা যায়। বর্তমানে বিকাশের হেল্পলাইন ১৬২৪৭ এবং ০২-৫৫৬৬৩০০১ নম্বরে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিকাশের লাইভ চ্যাট ও অন্যান্য অফিসিয়াল যোগাযোগমাধ্যমও ব্যবহার করা যায়। গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত তথ্য জানতে সবসময় বিকাশের অফিসিয়াল মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত এবং কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা অননুমোদিত মাধ্যমের কাছে PIN বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত গোপন তথ্য দেওয়া উচিত নয়।
সব মিলিয়ে, বিকাশ অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস, রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং পয়েন্টের মেয়াদ নিয়মিত যাচাই করলে গ্রাহক তার প্রাপ্য সুবিধাগুলো সময়মতো ব্যবহার করতে পারবেন। রিওয়ার্ড পয়েন্টের মেয়াদ বর্তমানে ১২ ক্যালেন্ডার মাস হওয়ায় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পয়েন্ট ফেলে না রেখে অ্যাপের রিওয়ার্ডস সেকশনে গিয়ে ব্যবহারযোগ্য অফার দেখে নেওয়া ভালো। একই সঙ্গে অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস ও লেনদেনের তথ্যও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ বা সমস্যা হলে সরাসরি বিকাশের অফিসিয়াল গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।