১০০ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ড্রয়ের মাধ্যমে প্রথম, দ্বিতীয় এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির পুরস্কারের বিজয়ী নম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রাইজবন্ডধারীদের মধ্যে ড্রয়ের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রাইজবন্ডে বিনিয়োগ করে আসছেন, তাদের জন্য এটি ছিল বহুল প্রতীক্ষিত একটি আয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২ নভেম্বর ২০২৫ রাজধানীর ঢাকায় ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে ০১০৮৩৩১ নম্বরের প্রাইজবন্ড প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৬ লাখ টাকা জিতেছে। এছাড়া ০১৫৬৮৯৭ নম্বরের প্রাইজবন্ড দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা লাভ করেছে। ড্রয়ের ফলাফল প্রকাশের পর বাংলাদেশ ব্যাংক বিজয়ী নম্বরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে।

প্রাইজবন্ড ড্রয়ে শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কারই নয়, আরও বিভিন্ন অঙ্কের পুরস্কার দেওয়া হয়। তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম ক্যাটাগরির পুরস্কারসহ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন সিরিজের বিজয়ী নম্বর নির্বাচন করা হয়। ১২১তম ড্রয়ে মোট ৮৩টি সিরিজের ৩ হাজার ৮১৮টি প্রাইজবন্ড পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কার ছাড়াও আরও অনেক প্রাইজবন্ডধারী বিভিন্ন অঙ্কের পুরস্কার জয়ের সুযোগ পেয়েছেন।

প্রাইজবন্ডের ফলাফল জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যালয় এবং অনুমোদিত ব্যাংকের শাখা থেকে বিজয়ী নম্বরের তালিকা সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও ড্রয়ের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যাদের কাছে একাধিক প্রাইজবন্ড রয়েছে, তারা সিরিজ ও নম্বর মিলিয়ে খুব সহজেই জানতে পারবেন তাদের কোনো প্রাইজবন্ড পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে কি না।

ড্রয়ে পুরস্কার পাওয়া প্রাইজবন্ডধারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরস্কারের দাবি করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছরের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ দাবি করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে ওই পুরস্কারের অর্থ আর উত্তোলন করা যায় না। তাই বিজয়ী নম্বর পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা উচিত।

পুরস্কারের অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদনকারীকে মূল প্রাইজবন্ড, নির্ধারিত আবেদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। আবেদন যাচাই শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে পুরস্কারের অর্থ প্রদান করা হয়। তবে প্রচলিত কর আইন অনুযায়ী পুরস্কারের অর্থ থেকে উৎসে কর (Tax at Source) কেটে অবশিষ্ট অর্থ প্রদান করা হয়। তাই ঘোষিত পুরস্কারের সম্পূর্ণ অর্থ হাতে পাওয়া যায় না।

প্রাইজবন্ড বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সঞ্চয়ভিত্তিক বিনিয়োগ মাধ্যম। মাত্র ১০০ টাকা মূল্যমানের একটি প্রাইজবন্ড কিনে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় পরপর অনুষ্ঠিত ড্রয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। প্রাইজবন্ডের বিশেষ সুবিধা হলো, এতে মূল অর্থের মালিকানা বজায় থাকে। অর্থাৎ পুরস্কার না পেলেও প্রাইজবন্ডের মূল মূল্য অক্ষুণ্ন থাকে এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তা নগদায়ন করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাইজবন্ড কেনার পর এর নম্বর নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা এবং নিয়মিত ড্রয়ের ফলাফল যাচাই করা উচিত। অনেকেই পুরস্কার পাওয়ার পরও সময়মতো দাবি না করায় নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যায়। তাই প্রতিটি ড্রয়ের ফল প্রকাশের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তালিকার সঙ্গে নিজের প্রাইজবন্ডের নম্বর মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাইজবন্ডধারীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়া উচিত নয়। পুরস্কার দাবি করার জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান বা ব্যক্তিগত ব্যাংকিং তথ্য কারও কাছে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অনুমোদিত তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমেই পুরস্কারের অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

সব মিলিয়ে, ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিজয়ী নম্বরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে। যাদের কাছে ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড রয়েছে, তারা দ্রুত নিজের প্রাইজবন্ডের নম্বর মিলিয়ে দেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ করে পুরস্কারের দাবি করতে পারেন

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!