বাংলাদেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় আন্তঃলেনদেন বা Interoperability চালুর উদ্যোগের ফলে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) প্ল্যাটফর্মের মধ্যে টাকা স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই আন্তঃলেনদেনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা NPSB অবকাঠামো ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে জারি করা নির্দেশনায় ব্যাংক, MFS ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের আন্তঃলেনদেন চালুর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।

এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—বিকাশ থেকে নগদে ১ হাজার টাকা পাঠালে কত টাকা চার্জ হবে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সর্বোচ্চ ফি কাঠামো অনুযায়ী, কোনো MFS অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য MFS, ব্যাংক বা PSP অ্যাকাউন্টে NPSB-এর মাধ্যমে টাকা পাঠালে MFS প্রদানকারী সর্বোচ্চ ০.৮৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ১ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ ৮ টাকা ৫০ পয়সা চার্জ নিতে পারে। এই চার্জের মধ্যে ভ্যাটও অন্তর্ভুক্ত।

অর্থাৎ, বিকাশ থেকে নগদে NPSB-এর মাধ্যমে ১ হাজার টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার্জ ৮ টাকা ৫০ পয়সা হলে প্রেরকের মোট খরচ দাঁড়াবে ১ হাজার ৮ টাকা ৫০ পয়সা। এখানে ১ হাজার টাকা যাবে প্রাপকের নগদ হিসাবে এবং সর্বোচ্চ ৮ টাকা ৫০ পয়সা চার্জ হিসেবে কাটা হবে। তবে এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা—কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী কম চার্জ নিলে প্রকৃত খরচ কম হতে পারে।

NPSB-ভিত্তিক আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থায় শুধু বিকাশ থেকে নগদ নয়, একটি MFS অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য MFS অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই কাঠামোর আওতায় MFS থেকে ব্যাংক বা PSP অ্যাকাউন্টেও অর্থ পাঠানো যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে লেনদেনের চার্জ প্রেরককে বহন করতে হবে এবং লেনদেন সম্পন্ন করার আগে গ্রাহককে প্রযোজ্য ফি সম্পর্কে জানাতে হবে।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। ১ হাজারে ১ টাকা ৫০ পয়সা চার্জ বিকাশ থেকে নগদে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই হারটি ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংক, MFS বা PSP-তে NPSB-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সর্বোচ্চ ফি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাঠামো অনুযায়ী ব্যাংকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফি ০.১৫ শতাংশ বা প্রতি হাজারে ১ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে MFS থেকে অন্য MFS, ব্যাংক বা PSP-তে পাঠানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ হার ০.৮৫ শতাংশ বা প্রতি হাজারে ৮ টাকা ৫০ পয়সা।

সহজ হিসাব করলে, বিকাশ থেকে NPSB-এর মাধ্যমে নগদে ২ হাজার টাকা পাঠালে সর্বোচ্চ চার্জ হতে পারে ১৭ টাকা। ৫ হাজার টাকা পাঠালে সর্বোচ্চ ৪২ টাকা ৫০ পয়সা এবং ১০ হাজার টাকা পাঠালে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা পর্যন্ত চার্জ হতে পারে। এগুলো কেবল ০.৮৫ শতাংশ সর্বোচ্চ হারের ভিত্তিতে করা হিসাব। বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট লেনদেনে প্রযোজ্য চার্জ জানতে লেনদেনের আগে বিকাশ অ্যাপে প্রদর্শিত ফি দেখাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

NPSB আন্তঃলেনদেনের ফলে গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এক প্ল্যাটফর্মের টাকা অন্য প্ল্যাটফর্মে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়া। আগে একজন বিকাশ ব্যবহারকারীকে নগদ ব্যবহারকারীর কাছে টাকা পাঠাতে বিকল্প পদ্ধতি খুঁজতে হতে পারত। আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা চালু হলে NPSB-সংযুক্ত সেবার মাধ্যমে সরাসরি ডিজিটাল ট্রান্সফারের সুযোগ তৈরি হয়। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি নগদ টাকা উত্তোলন করে আবার অন্য অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার প্রয়োজনও কমতে পারে।

তবে ২০২৫ সালের বাস্তবায়ন পর্যায়ে সব MFS একই সময়ে এই সুবিধা পুরোপুরি চালু করতে পারেনি। ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা থাকলেও সে সময় বড় কয়েকটি MFS প্রস্তুত না থাকায় বাস্তবায়নে বিলম্বের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বিকাশ থেকে নগদে NPSB ট্রান্সফার করা যাচ্ছে কি না, তা শুধু পুরোনো সার্কুলার দেখে নয়, সংশ্লিষ্ট অ্যাপের বর্তমান সুবিধা দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে বিকাশের অফিসিয়াল লিমিট পেজে “bKash to Bank/Card/MFS (NPSB)” নামে আন্তঃলেনদেনের ক্যাটাগরি রয়েছে। সেখানে প্রতি লেনদেনে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা, দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা লেনদেনের সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিকাশ থেকে নগদে NPSB-এর মাধ্যমে ১ হাজার টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সর্বোচ্চ MFS ফি হলো ৮ টাকা ৫০ পয়সা। তবে এটিকে বিকাশের সব ধরনের লেনদেনের সাধারণ চার্জ হিসেবে দেখা যাবে না। লেনদেনের ধরন, সেবা সক্রিয়তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চার্জ অনুযায়ী প্রকৃত খরচ ভিন্ন হতে পারে। তাই টাকা পাঠানোর আগে অ্যাপে প্রদর্শিত চার্জ ও গন্তব্য নম্বর যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!